শনিবার, মার্চ ২৩

ভক্তিরসে গা ভাসালো বিজেপিও, কৈলাস তাই কীর্তনিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গলায় খোল নিয়ে নেচে নেচে গান গাইছেন তিনি। গলায় গেরুয়া উত্তরীয়। কখনও নিজে মাইক ধরে, কখনও বা অন্য কেউ ধরে রয়েছেন মাইক। প্রাণ খোলা গলায় শোনা যাচ্ছে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম।’ আর এই গানের তালে তালে সামনের হাজার হাজার কীর্তন, বাউল ও ভক্তিগীতি শিল্পীরা নাচছেন। গায়ক আর কেউ নন, কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের বিজেপি পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

বৃহস্পতিবার কলকাতার শহিদ মিনার চত্বরে সভা ছিল সারা ভারত কীর্তন, বাউল ও ভক্তিগীতি কল্যাণ সমিতির। সেই সভাতেই অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন কৈলাস। মঞ্চে থাকাকালীন হঠাৎ করেই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে নেন তিনি। গাইতে শুরু করেন, ‘‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম…৷’  মধ্যপ্রদেশের এই দাপুটে নেতার গানে তাল মেলান সেখানকার সব বাউল-কীর্তনিয়ারা।

আরও পড়ুন শ্রীকান্ত মোহতা গ্রেফতার, পার্থ বললেন গণতন্ত্রে বিপদের লক্ষণ

নিজের গানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ফেসবুকেও লাইভ করা হয় এই গান। টুইটারে তিনি লেখেন, “এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে ভক্তিরসের গান ও ভোজন ( ভজন ) শুনে আনন্দিত হলাম।”

তবে কৈলাস-এর এই ঘটনাকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকার লোকশিল্পীদের নিয়ে নানা রকম প্রকল্প ঘোষণা করছে। মাসিক ভাতা, পেনশন থেকে শুরু করে, বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধার কথা ঘোষণা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাউল মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। সব জায়গায় দরাজ হস্তে মমতা ঘোষণা করছেন, এই সরকার শিল্পীদের জন্য অনেক কিছু করছেন।

পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, বিজেপিও জানে, এ রাজ্যে মাটি দখল করতে হলে মাটির কাছে থাকা বাউল-কীর্তনিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে হবে। বিজেপিও যে শিল্পীদের কথা ভাবে, তাঁদের সুখ-সুবিধার কথা ভাবে, এটা সবাইকে বোঝানোর জন্যই বিজেপি নেতারা এই ধরণের অনুষ্ঠানে আরও বেশি করে যোগ দিচ্ছেন। সেই জন্যই কি এ দিন বাউল-কীর্তনিয়াদের অনুষ্ঠানে কীর্তন গাইলেন কৈলাস? লোকশিল্পীদের একটা অংশও কি ঝুঁকছেন বিজেপির দিকে? নইলে এ দিনের সভায় যে উন্মাদনা দেখা গেল, তা কিন্তু তাই বলে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.