বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

খাস কলকাতায় খণ্ডযুদ্ধ তৃণমূলে তৃণমূলে, কাশীপুর যেন কুরুক্ষেত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের নানুর কিংবা পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় নয়, এ বার শাসকদলের নিজেদের কোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে উঠল খোদ মহানগর। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কুরুক্ষেত্রের চেহারা নিল কাশীপুর।

চলল পাথর বৃষ্টি, মারধর। সোমবার সকাল থেকে টানা আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে খণ্ডযুদ্ধ। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “ঘরের ভিতর বসে ছিলাম সকাল থেকে। ভয়ে বাইরে বেরোতে পারেনি।” পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। অনেকটা বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর থামে লড়াই। দুপুরের পরও এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সন্ধে নামলে ফের উত্তেজনা শুরু হতে পারে এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। কলকাতা কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বস্তি এলাকার একটি ছোট্ট পানের দোকান চালান লাডলা নামের একজন। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ছেলে মদ্যপ অবস্থায় তাঁর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হুজ্জুতি করছিল। দোকানের সামনে ওই সব করতে বারণ করায় ওই যুবকরা তাঁকে ধরে পিটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যারা লাডলাকে ধরে মেরেছে, তারা সকলেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা আনোয়ার খানের অনুগামী।

কাশীপুর ২২ নম্বর বস্তি এলাকায় তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠী বলে জানা গিয়েছে। আনোয়ারের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা স্বপন চক্রবর্তী। রবিবার ঘটনার রেশ ধরেই সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ। চলে পাথর বৃষ্টি। বেশ কয়েকটি বাড়ির টালির চাল গুঁড়িয়ে গিয়েছে। মহিলাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কাশীপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

কিন্তু শুধুই কি পানের দোকানদারকে মারের ঘটনা থেকেই এত বড় ঘটনা? নাকি এটাই শুধুই ছুতো?

স্থানীয়দের মতে, এই এলাকা এখন প্রমোটারদের স্বর্গ রাজ্য। বেআইনি নির্মাণ লেগেই রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে কলকাতা স্টেশন লাগোয়া এলাকায় সিমেন্টের লোডিং-আনলোডিং-এর কাঁচা পয়সার ব্যবসা। অনেকের মতে, টাকাপয়সার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়েই এই সংঘর্ষ।

স্থানীয় কাউন্সিলর সীতা জয়সওয়ারা অবশ্য জানিয়েছেন, এর মধ্যে তৃণমূলের কোনও ব্যাপারনেই। এলাকার দু’দল যুবকের ঝামেলা থেকেই এই গণ্ডগোল।

প্রসঙ্গত, কাশীপুরে শাসকের কোন্দল নতুন নয়। গত কয়েকমাসে এই এলাকায় একাধিকবার এই ঘটনা ঘটেছে। কখনও শোনা গিয়েছে তৃণমূলের একপক্ষ লোক বাড়াতে কামারহাটি থেকে ছেলে এনেছে তো অন্য গোষ্ঠী আলমবাজার থেকে ছেলে এনে পাল্টা জমায়েত করেছে। তবে সোমবার দিনের আলোয় যে ঘটনা ঘটল, তাতে সন্ত্রস্ত এলাকাবাসী।

Shares

Comments are closed.