সোমবার, অক্টোবর ১৪

হুইল চেয়ারে সিলিন্ডার, নাকে লাগানো অক্সিজেনের নল, তিনমাসের মেয়েকে নিয়ে হাঁটছেন মা, অমানবিক দৃশ্য মেডিক্যাল কলেজে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : হুইল চেয়ারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। আর তার পাশেই তিন মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে রোদে হাঁটছেন মা। মাঝেমধ্যেই টান পড়ছে অক্সিজেনের নলে। আর তখনই ঝাঁকিয়ে উঠছে শিশুর শরীর। এমনটাই দৃশ্য ধরা পড়ল খোদ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। আর এই ঘটনার পরেই শুরু হয়েছে সমালোচনা।

হুগলির চাপদানির বাসিন্দা সুরেশ শর্মার তিন মাসের মেয়ে সানভির জন্ম থেকেই শ্বাসকষ্ট রয়েছে। কয়েকদিন আগে ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় সে। ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে যায়। জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার করার পর মঙ্গলবার তাকে ভর্তি করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব বিল্ডিং-এ। হাসপাতাল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এক্স রে করতে হবে সানভির।

জানানো হয়, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব বিল্ডিং-এ এক্স রে মেশিন খারাপ। ফলে অন্য বিল্ডিং-এ এক্স রে করাতে নিয়ে যেতে হবে। একটা হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা গেলেও সেখানে রোগী ও অক্সিজেন সিলিন্ডার একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দেখা যায়, সানভিকে কোলে নিয়ে হাঁটছেন মা। পাশে পাশে হুইল চেয়ারে অক্সিজেন সিলিন্ডার বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এক কর্মী। মাঝেমধ্যেই নলে টান পড়ছে। ফলে সমস্যা হচ্ছে একরত্তি শিশুর। এ ভাবেই ৩০০ মিটার দূরে অন্য বিল্ডিং-এ এক্স রে করাতে নিয়ে যেতে হয়।

কিন্তু কেন এমন হলো? মেডিক্যাল কলেজের মতো হাসপাতালে কি রোগী ও অক্সিজেন সিলিন্ডার একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার মতো হুইল চেয়ার নেই? এভাবে রোগী নিয়ে যাওয়া তো নিয়মবিরুদ্ধ।

এই প্রসঙ্গে হুইল চেয়ার নিয়ে যাওয়া হাসপাতালের কর্মী আকবর শেখকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন , “আমাকে যা দিয়েছে তাতেই নিয়ে যাচ্ছি। মা ও সন্তানকে হুইল চেয়ারে বসালে সিলিন্ডার রাখবো কোথায়?” কিন্তু এভাবে নিয়ে যাওয়া নিয়মের বাইরে কিনা তা জিজ্ঞাসা করলে কোনও উত্তর মেলেনি।

সানভির বাবা সুরেশ জানিয়েছেন, “অনেক জায়গায় ঘুরেছি। আমার মেয়ের চিকিৎসা দরকার। এসব নিয়ে কাকে বলবো? দেখুন হুইল চেয়ার এগিয়ে গেলেই টান পড়ছে ওই টুকু বাচ্চার নাকে লাগানো নলে। কষ্ট পাচ্ছে মেয়ে।” সানভির এক আত্মীয় বলেন, “৫০ টাকা দিয়েছি। এই হুইল চেয়ার দিয়েছে। ১০০ টাকা দিলে বড় হুইল চেয়ার দেবে বলেছিল। সেটার নীচে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার ব্যাবস্থা আছে। কিন্তু কী করবো? টাকা নেই। কিছু বললে যদি চিকিৎসা না হয়, সেই ভয়ে কিছু বলিনি।”

এই ব্যাপারে মেডিক্যাল কলেজের এক কর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এভাবে নিয়ে যাওয়া অপরাধ। এটা নিয়ম নয়। কেন এরকম হলো জানি না। অভিযোগ পেলে করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Comments are closed.