‘ইচ্ছেমতো পার্বণ’, বছরের শেষ দিনে সারারাত নাটক দেখবে কলকাতা

১৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সোহিনী চক্রবর্তী

এ যেন নাটকের মহোৎসব। বছর শেষের রাতে যখন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অনেকেই পার্টি-হইহুল্লোড়ে মাতবেন, সেসময় শহর কলকাতার একটা বড় অংশ নাটক দেখবেন। ৩১ ডিসেম্বরের রাতেই অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত হয়েছে এই উৎসব। রাত এগারোটা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে নাটক। মঞ্চ মাতাতে উপস্থিত থাকবে বাংলার নামিদামি নাটকের দল।

নান্দীকারের ‘পৃথিবী রাস্তা শব্দ’, সংসৃতির ‘FYA NA Co.’ এবং নীল মুখোপাধ্যায়ের ‘নাটকের গান’-এর পাশাপাশি মঙ্গলবার রাতের এই বিশাল আয়োজনের মধ্যে থাকবে ‘ইচ্ছেমতো’-র মোট তিনটি নাটক। ‘বেঞ্চমার্ক’, ‘স্টোন ২.০’ এবং ‘ভালবাসার পদাবলী’। মাত্র পাঁচ বছর বয়স ‘ইচ্ছেমতো’-র। তবে বয়সে কম হলেও উৎসাহে কোনও কমতি নেই দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে। ৩১-এর শীতের রাতে সারারাতব্যাপী নাটকের এই অনুষ্ঠন নিয়ে দারুণ আশাবাদী তাঁরা সকলেই। দলের অন্যতম মুখ তূর্ণা দাশের সঙ্গে আড্ডার মাঝেই উঠে এল এমন নাট্যোৎসবের পিছনে থাকা আসল গল্পটা।

হঠাৎ সারারাতব্যাপী নাটকের অনুষ্ঠান কেন?

তূর্ণা- এই চল কিন্তু আজকের নয়। বিগত কয়েক বছরে কলকাতা শহর নাটক নিয়ে এমন আয়োজন দেখেনি ঠিকই, কিন্তু আমরা বড় হয়েছি ‘নাট্য-স্বপ্ন-কল্প’ দেখে। নাট্যপ্রেমী বা নাটকের যাঁরা একদম হার্ডকোর দর্শক তাঁদের কাছে ‘নাট্য-স্বপ্ন-কল্প’ মানে নস্ট্যালজিয়া। বছর ২০ ধরে চলে আসা এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিত বিভাস চক্রবর্তীর নাটকের দল এবং আরও অনেক দল। আমি নিজেও সেখানে বেশ কয়েকবার পারফর্ম করেছি। তবে নানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে এটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর আমরা নাট্যপ্রেমীরা, নাটকের দর্শকরা গোটা বিষয়টাকেই ভীষণভাবে মিস করতাম। তাই এবছর এই উদ্যোগ।

নানা গল্পের মাঝে কথা হল ‘ইচ্ছেমতো’-র এবারের নাটক ‘বেঞ্চমার্ক’ নিয়ে। এডওয়ার্ড অ্যালবি’র ‘দ্য জু স্টোরি’ অবলম্বনে মঞ্চস্থ হবে এই নাটক। যেখানে বলা হয়েছে বিবাহিত জীবনে থাকা দুই নারীর বিভিন্ন ক্রাইসিসের গল্প। কলকাতার প্রেক্ষাপটেই সাজানো হয়েছে পুরো নাটকটা।

তবে খুব অদ্ভুত ভাবেই এই নাটকে অভিনয় করছেন যে দু’জন তাঁদের মধ্যে একজন অবিবাহিতা। নাটকের নির্দেশনা এবং ভাবানুবাদও করেছেন দুই অবিবাহিতই। তবে নিজেদের কাজ নিয়ে তাঁরা প্রত্যেকেই আত্মবিশ্বাসী। মঞ্চস্থ হলে এ নাটক যে হাততালি কুড়োবে হাজার টেনশনের মাঝেও সে ব্যাপারে ‘ইচ্ছেমতো’ নিশ্চিত।

নাটকের জগতে তূর্ণা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট পরিচিত নাম। বিশেষত ‘ক্যাপ্টেন হুররা’-র প্রতিটি শোয়ে তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্স দর্শকের মনে তূর্ণাকে জায়গা করে দিয়েছে। নতুন নাটক নিয়ে দারুণ উত্তেজিত তূর্ণা। তাঁর কথায়, “এই নাটকের গল্পটা খুব জটিল। তবে খুব মন ছুঁয়ে যাওয়া। বৈবাহিক জীবনে দু’জন নারী কী কী ক্রাইসিসের সম্মুখীন হন তাই নিয়েই এগিয়ে চলবে নাটক। আর পারিপার্শ্বিক সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সবটা ঠিকমতো উপস্থাপন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।“

নাটকের নির্দেশক অপ্রতিম সরকার এবং সহ-অভিনেত্রী সুলগ্না নাথকে নিয়েও যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত তূর্ণা। বললেন, “সুলগ্না আমার থেকে বয়সে বেশ অনেকটাই ছোট। বিবাহিত জীবন এক্সপিরিয়েন্স করেনি আমার মতো। কিন্তু তাও এত নিখুঁত ভাবে এক্সপ্রেশন দিয়ে সবটা ফুটিয়ে তুলছে যে আমি রিহার্সালে ওকে দেখে বারবার অবাক হয়ে যাচ্ছি। ওর বয়সে আমি কিন্তু এমনটা পারতাম না হয়তো। একটুও বাড়িয়ে বলছি না, দর্শকরা সুলগ্নার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হবেন এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।“

অভিনেত্রী পোড় খাওয়া হলেও নির্দেশনায় এই প্রথম অপ্রতিম। ছোট থেকেই নাটক করার বড্ড শখ তাঁর। কলকাতার কলেজে পড়তে এসেই নাটক দেখার আগ্রহ এবং শখ দুটোই বাড়ছিল। একটা নাটক দেখার সূত্রেই ‘ইচ্ছেমতো’-র সৌরভ পালধির সঙ্গে আলাপ। তারপর দলের ওয়ার্কশপ জয়েন করেছিলেন অপ্রতিম। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন দলের একনিষ্ঠ এবং অন্যতম সদস্য। আর আজ তিনি নাটকের নির্দেশক।

নাটক নিয়ে আলোচনা হল অপ্রতিমের সঙ্গেও।

প্রথম নাটকের নির্দেশনা, ভয় লাগছে নিশ্চয়?

অপ্রতিম- ভীষণ। তবে কনফিডেন্সও আছে। আর এমন একটা দল পেলে প্রচণ্ড টেনশনেও সব স্বাভাবিক লাগে। আমাদের দলে কেউ একজন নির্দেশক নয়। কোনও কিছু ক্ষেত্রেই একজনের কথার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত হয় না। সবার মত সমানভাবে শোনা হয়। কমরেডশিপ আরকি। দলগত ভাবে কাজ করা। ‘ইচ্ছেমতো’-র এই স্পিরিটটাই আমায় এতদূর নিয়ে এসেছে। নাটকে অভিনয়ের পর এবার নির্দেশনাতেও অংশ নিচ্ছি।

অভিনেতা থেকে নির্দেশক, ফারাক কতটা?

অপ্রতিম- বিশাল। আমি তো প্রথমে সবটা একজন অভিনেতার চোখ দিয়েই দেখছিলাম, ভাবছিলাম। আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম যে এখন অনেক কিছু বিষয় একসঙ্গে মাথায় রাখতে হবে। আমি খুব ভাগ্যবান যে কুশল চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন নাটকটার ভাবানুবাদ করেছে। ১৯ বছরের ছেলে ও। বিবাহিত জীবনের কিছুই প্রায় বোঝে না। কিন্তু তাতেও ও যেটা করে দেখিয়েছে সেটা এককথায় অসাধারণ। আমি নিজেও অবশ্য বিবাহিত নই। তবে কী করে যে নির্দেশনাটা দিচ্ছি সেটা আমার কাছেই একটা চমক। অবশ্য এখানে আমি আবারও বলব দলের এতটা সাপোর্ট না থাকলে এসব কিছুই সম্ভব হত না।

‘ইচ্ছেমতো’-র একটা নয়, তিন তিনটে নাটক থাকছে ৩১-এর রাতে। দলের তরফ থেকে সকলেরই তাই শহরবাসীর কাছে একটাই কথা বলার, “আপনারা আসুন, ভাল নাটক দেখুন, নতুন বছরকে স্বাগত জানান একটু অন্যভাবে। এমন প্রচেষ্টা ভাল লাগতে বাধ্য।“

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More