রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে বিক্ষোভ উঠল হেয়ার স্কুলে, আগামিকাল থেকে যোগ দেবেন পাঁচ জন শিক্ষক

  • 26
  •  
  •  
    26
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একমাসের মধ্যে দু’বার। ১৭ জুলাইয়ের পর ২৮ অগস্ট। ফের শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে হেয়ার স্কুল। সকাল ৮টা থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন অভিভাবকরা। অভিযোগ, গত মাসেই শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। শিক্ষামন্ত্রী ঘটনাস্থলে না পৌঁছলে অবরোধ তোলা হবে না বলে জানিয়েও দেন অভিভাবকরা। পরে শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়ে অবরোধ উঠে যায়।

ব্যস্ত সময় এই অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় কলেজ স্ট্রিটে। নাকাল হয়ে হয় নিত্যযাত্রীদের। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তাতেই গণ অবস্থান শুরু করেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। সঙ্গে স্লোগান। অবরোধকারীদের দাবি ছিল, প্রাথমিকে শিক্ষক কম, তাই ক্লাসও হয় অনিয়মিত। এক মাসের মধ্যে দাবি মেটানোর আশ্বাস ছিল। তবে তা পূরণ হয়নি। তাই এই অবস্থান-বিক্ষোভ।

অবস্থান তুলতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল) নাসিম আলি। অভিভাবকদের সঙ্গে কথাও বলেন।  তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। বেলা বাড়তে অভিভাবকদের সঙ্গে বিক্ষোভে য়োগ দেয় প্রাথমিক বিভাগের পড়ুয়ারাও। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে পৌঁছন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কার্তিক মান্না। তিনি বলেন, ‘‘ স্কুলে পাঁচ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা আগামিকাল থেকেই স্কুলে যোগ দেবেন। পরে এই বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হবে।’’

হেয়ার স্কুলে এখন ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৫০০। সেই তুলনায় শিক্ষক হাতে গোনা। প্রাথমিক বিভাগে যেখানে  কম করেও ১১ জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে টিচার ইন-চার্জকে নিয়ে রয়েছেন মাত্র ৯ জন। এরই মধ্যে গত মাসে একজন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথমে অবসর নেবেন টিচার ইন-চার্জ তনুশ্রী নাগও। ফলে শিক্ষকের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে সাত জনে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে এখন ক্লাস অনিয়মিত হয়ে গেছে। আগে দু’পিরিয়ডের পরেই ছুটি হয়ে যেত। এখন একটা ক্লাস হয়। দিনের পর দিন এটাই চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও লাভ হয়নি। পাশাপাশি, সার্বিক পরিকাঠামোর সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন তাঁরা।

গত মাসেই শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ-অবরোধ হয়েছিল হেয়ার স্কুল চত্বরে। অভিভাবকদের দাবি, সেই সময় গোটা বিষয়টা বিস্তারিত ভাবে শিক্ষা মন্ত্রীকে জানানো হয়েছিল। শিক্ষকের ঘাটতি মেটানোর জন্য বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাসও দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তার পরেও দাবি পূরণ হয়নি। উল্টে শিক্ষকের সংখ্যা আরও কমেছে।

Comments are closed.