যাদবপুরকে রাজনীতির আখড়ায় পরিণত করেছে সরকার, ফের বিস্ফোরক রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে ঘিরে ছাত্রবিক্ষোভের আশঙ্কায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আর তারপরেই এই বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল। টুইট করে এই ঘটনার জন্য সরকারের উপরেই দোষ চাপালেন তিনি।

    বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণার পরেই একাধিক টুইট করে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। প্রথম টুইটে তিনি লেখেন, “এই নিয়ে পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও অনুষ্ঠান বাতিল করা হল। আচার্য হিসেবে আমি সবরকম অনুমতি দিয়েছিলাম ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকব বলেছিলাম। একটা যুদ্ধের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। আমি সব প্রাক্তন উপাচার্যদের অনুরোধ করছি এই বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য।”

    কিছুক্ষণ পরে আর একটি টুইট করেন ধনকড়। সেখানে তিনি লেখেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আইনত এর কোনও অনুমতি নেই। এটা একটা খারাপ ঘটনা। আমি বুঝতে পারছি না কেন রাজ্য সরকার শিক্ষার মন্দিরগুলিকে রাজনীতির আখড়ায় পরিণত করছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ খারাপ হচ্ছে।”

    আগামী ২৪ ডিসেম্বরের এই অনুষ্ঠানে সাম্মানিক ডি লিট দেওয়ার জন্য নাম ঠিক হয়েছিল বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ এবং প্রাক্তন বিদেশ সচিব সলমন হায়দারের। সাম্মানিক ডি এসসি দেওয়ার কথা ছিল ভারতরত্ন প্রাপ্ত সিএনআর রাও এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই বিষয় নিয়েও টুইট করেন ধনকড়। তিনি লেখেন, “যেসব প্রখ্যাত ব্যক্তিকে সম্মানিত করার কথা ছিল তাঁদের অপমান করা হল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিই কালিমালিপ্ত হল। আমি সম্মানপ্রাপকদের মানপত্রে সই করেছিলাম। সেগুলো এখন আটকে রাখা হল দেখে আমি দুঃখিত।”

    এখানেই শেষ করেননি রাজ্যপাল। চার নম্বর টুইট করে তিনি বলেন, “এবার সময় হয়েছে, যাঁরা শিক্ষাকে ভালবাসেন তাঁরা আমাকে জানান কী ভাবে যাদবপুরের মতো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতির শৃঙ্খল পরিয়ে নীচের দিকে নিয়ে যাওয়া থেকে আমি রক্ষা করতে পারি।”

    রাজ্যপালের করা এই সব টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে এসএফআই-এর কলকাতা জেলা সম্পাদক সমন্বয় রাহা বলেন, “যাদবপুরের ছাত্র-ছাত্রীরা রাজনীতি করতে প্রস্তুত। কারণ তাঁরা গর্ব করে এটা ভেবে, একটা ক্যাম্পাস যদি একজন ভাল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র বা সাহিত্যিকের জন্ম দিতে পারে তাহলে সেই ক্যাম্পাসে রাজনীতিকেরও জন্ম হয়।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস হল এখনকার ছাত্ররা যে কোনও রকম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধ। রাজ্যপাল আরএসএস আর বিজেপির দালালি করলে রাজনীতি হবেই। তিনি দুঃখ পেলে দুঃখ পেতে পারেন। কিন্তু আমাদের কাজ আমরা করবই।”

    গত তিনদিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের হোয়াটস্যাপে একটি বার্তা পাঠানো শুরু হয়।  তাতে লেখা হয়, “আগামী ২৪শে ডিসেম্বর, ২০১৯ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা আমাদের ‘অভিভাবক'(!) আচার্য ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রমে গত কয়েক মাসে এটা স্পষ্ট যে, তিনি বিজেপি ও আরএসএসের দালালি করে ফ্যাসিবাদের একনিষ্ঠ প্রচারকের ভূমিকাই পালন করে আসছেন লাগাতার।” সেই বার্তায় আরও বলা হয়, “সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমাদের আহ্বান, একসাথে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাঙ্গাবাজির সমর্থক এই জগদীপ ধনকড়কে বয়কট করি। কালো পতাকা ও কালো ব্যাজ পরে আমরা আওয়াজ তুলব সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে।”

    আরও পড়ুন রাজ্যপালকে ঘিরে ছাত্রবিক্ষোভের আশঙ্কা! স্থগিত হয়ে গেল যাদবপুরের বিশেষ সমাবর্তন

    এই ঘটনা শোনার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়। কারণ কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এরপরেই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, বিশেষ সমাবর্তন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সাধারণ যে সমাবর্তন হয় তা পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে। ওই অনুষ্ঠানে নিয়মানুযায়ী রাজ্যপাল বা আচার্যের উপস্থিতি না হলেও চলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More