দশম শ্রেণির ছাত্রী ও তার মাকে নিগ্রহের অভিযোগ এসএসকেএম-এর ৫ ডাক্তারের বিরুদ্ধে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  দক্ষিণ কলকাতার এক নামি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও তার মাকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠলো এসএসকেএম হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের পাঁচ ডাক্তারের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। অন্যদিকে ডাক্তারদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা নন, উল্টে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকেরাই।

দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী জানিয়েছে, তার স্কুলে ইউনিট টেস্ট চলছে। তাই আগের দিন রাত তিনটে অবধি পড়াশোনা করে সে। মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যাওয়া অবধিও কোনও সমস্যা হয়নি। পরীক্ষায় বসার কিছুক্ষণ পরে শরীর খারাপ লাগে তার। তখন বাথরুমে গেলে তার রক্তবমি হয়। ওই অবস্থায় ফিরে এসে ফের কিছুটা পরীক্ষা দেয় সে। কিন্তু পুরোটা শেষ করতে পারেনি।

ছাত্রীর বক্তব্য, তার এই রক্তবমির কথা শিক্ষিকাদের জানালে তাঁরা তার জামার রক্ত মুছে দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলেন। পরীক্ষা থাকায় বাবা-মা স্কুলের বাইরেই ছিলেন। তাদের নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে যায় সে। সেখানে তাকে বলা হয়, ছ’নম্বর আউটডোরে যেতে। সেটা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের আউটডোর। সেখানে গেলে এন্ডোস্কপি হয় তার।

ছাত্রীর অভিযোগ, “এতক্ষণ সব ঠিকই ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যে এন্ডোস্কপির রিপোর্ট চলে আসে। সেই রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেন, কিছুই হয়নি তোমার। আমিও রিপোর্টে দেখি কিছু নেই। আমার এর ভাগেও এন্ডোস্কপি হয়েছিল। তখনও কিছু পাওয়া যায়নি।”

তারপরেই নাকি ডাক্তার দুর্ব্যবহার করেন তার সাথে। ওই ছাত্রীর বক্তব্য, “ডাক্তার বলেন, পরীক্ষার সময় বাড়ির লোককে ভয় দেখিও না। তখন আমি বলি, এরকম কেন বলছেন। তাতে ডাক্তারবাবু আরও রেগে বলেন, একদম নাটক করবে না। তুমি নাটক করছো। এই বলে আমার মুখের উপর রিপোর্ট ছুড়ে মারেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার হাত মচকে দেওয়া হয়। বাবা দেখে ছুটে এলে বাবাকে আটকে দেওয়া হয়। মা এলে মাকেও মারধর করে আমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।”

ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তাঁর ওড়না টেনে খুলে দেওয়া হয়। মহিলা হওয়া সত্বেও তাঁকে মারধর করেন ডাক্তারবাবুরা। এই অভিযোগ তুলে পাঁচজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে সুপারের দ্বারস্থ হন তাঁরা। ঘটনাস্থলে আসে ভবানীপুর থানার পুলিশ। তাঁরা ছাত্রীর পরিবার ও সুপার দু’পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেন।

অন্য সুর অবশ্য শোনা গিয়েছে ডাক্তারদের মুখে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কোনও অভিযোগের যুক্তি নেই। মেয়েটির এমনই সব ঠিক আছে, কিন্তু ওর কাউন্সেলিং দরকার। কারণ ওর সঙ্গে কথা বলে আমরা বুঝতে পেরেছি, ও যখনই কোনও বিপদে পড়ে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই ধরণের কাণ্ড করে। বরং ওরাই গণ্ডগোল করছিল। সেখানে প্রায় ৬০০-৮০০ রোগী ছিল। বাকিরাও চিৎকার করছিল। এমনকী ওরাই টেবিলের উপর রাখা কম্পিউটার ফেলে দিয়েছে। ফলে ওদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ওই চিকিৎসকের অভিযোগ, ছাত্রীর পরিবারের লোক অভিযোগ করলে ডাক্তাররাও অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এসএসকেএম-এর সুপার রঘুনাথ মিশ্র জানিয়েছেন, তিনি ছাত্রীর পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More