বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

#Breaking: বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জের, জোড়া এফআইআর দায়ের, নাম রয়েছে অমিত শাহেরও

  • 76
  •  
  •  
    76
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই উত্তাল কলেজ স্ট্রিট এলাকা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসগর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করেছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি। বুধবার সকালে এই ঘটনায় জোড়া এফআইআর দায়ের করা হলো। জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন বিদ্যাসগর কলেজের এক ছাত্রী। এই এফআইআর-এ নাম রয়েছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহেরও। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ৫৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবারের এই সংঘর্ষে ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। এই গাড়ি ভাঙচুরের ব্যাপারে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেই খবর।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধেবেলা। অমিত শাহের রোড শো কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছনোর পরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যদের তরফে তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। ‘অমিত শাহ গো ব্যাক’ স্লোগানও ওঠে। তারপরেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয় টিএমসিপি সদস্যদের। জানা গিয়েছে দু’পক্ষ থেকেই ইঁট, পাথর, বোতল ছোঁড়া হয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর ঢোকার চেষ্টা করেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গেও ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় তাঁদের।

এই সংঘর্ষ গড়ায় বিদ্যাসাগর কলেজের সামনেও। সেখানেও টিএমসিপি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। কলেজের বাইরে একটি বাইকে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়েই বিদ্যাসাগর কলেজের ঠিক সামনে প্রায় ২০০ বছর পুরনো বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়। টিএমসিপি অভিযোগ করে বিজেপি কর্মীরা এই মূর্তি ভেঙেছে। রাতের দিকে সেখানে আসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই ঘটনার জন্য বিজেপির নিন্দে করেন তাঁরা।

বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে দাউদাউ করে জ্বলছে বাইক

অন্যদিকে বিজেপির তরফে জানানো হয়, এই ঘটনা টিএমসিপি সদস্যরাই করেছে। বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “কোনও বিজেপি কর্মী কলেজের মধ্যে ঢুলতে পারেনি। ওরা অমিত শাহের এত বড় রোড শো দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাই এই গণ্ডগোল করেছে। নিজেরা মূর্তি ভেঙে এখন সেটা বিজেপির উপর দিয়ে চাপাচ্ছে।”

তবে এই ঘটনার রেশ যে এখনও কাটেনি তা বুধবার সকালেই দেখা গেল। জোড়া এফআইআর দায়ের হলো। বিজেপি সভাপতিও এফআইআর-এর তালিকা থেকে বাদ গেলেন না। তবে দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে অমিত শাহ বলেছেন, “আমার নামে এফআইআর করা হয়েছে। এফআইআর-এ আমরা ভয় পাই না।”

আরও পড়ুন

বিদ্যাসাগর, আমাদের ক্ষমা করুন

Comments are closed.