কেটে দু’টুকরো বাঁ-হাতের বুড়ো আঙুল, জোড়া লাগালো মেডিক্যাল কলেজ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে দু-আধখানা হয়ে যাওয়া আঙুল জোড়া লাগালেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। এই প্রথমবার এমন সাফল্য পেল মেডিক্যাল কলেজে, এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    পাথরপ্রতিমার বাসিন্দা অনুপকুমার প্রামাণিক। পেশায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বাড়ির কাজ করতে গিয়ে মার্বেল কাটার মেশিনে কেটে যায় তাঁর বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল। তখনই স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছোটেন অনুপবাবু। কিন্তু সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় আঙুল জোড়ার ব্যবস্থা নেই। এরপর প্লাস্টিকে আঙুল মুড়িয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে হাজির হন অনুপবাবু। তবে হাসপাতালে আসতে দুপুর হয়ে যাওয়ায় ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মেন ওটি বিভাগ।

    কিন্তু অভয় দেন চিকিৎসকরা। সংরক্ষণ করা হয় অনুপবাবুর কাটা আঙুল। এরপর দীর্ঘক্ষণ অস্ত্রোপচারের পর জোড়া লাগানো সম্ভব হয় অনুপবাবুর ওই কাটা আঙুল। অপারেশনের সময়ে ছিলেন প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রবীর যশ, সার্জেন শান্তনু সুবা, ডাক্তার বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং অমিয় ওয়ারকে। সার্জেন শান্তনু সুবা জানিয়েছেন, সংরক্ষণের পর মাইক্রোস্কোপের নীচে রেখে কাটা আঙুলের টিস্যু, নার্ভ, হাড় নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারপর সব ম্যাচ করে আঙুল জোড়ার কাজ শুরু হয়। জোড়া লাগানোর সময়ে কাটা আঙুলের সামান্য অংশ বাদ দিতে হয়েছে। ফলে লম্বায় একটু ছোট হয়ে গিয়েছে আঙুলটি। কিন্তু একদম স্বাভাবিক ভাবেই সব কাজ করতে পারবেন অনুপবাবু।

    কাটা আঙুল সফল ভাবে জোড়া লেগে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রয়েছেন অনুপবাবুও। তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে এত ভালো পরিষেবা পাবো ভাবিনি। আঙুল যে জোড়া লাগবে সে ব্যাপারেও সন্দেহ ছিল। তবে এখন বাঁ-হাতে আগের মতোই স্বাভাবিক ভাবে সব কাজ করতে পারছি। জিনিসপত্র ধরতে পারছি। কোনও অসুবিধেই নেই।” মেডিক্যাল কলেজের এই সাফল্যে খুশি প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রবীর যশও। ডাক্তারবাবু জানিয়েছেন, “এতদিন এ ধরনের সার্জারি বেসরকারি হাসপাতালেই হতো। তবে এ বার মেডিক্যাল কলেজের অন্যান্য সাফল্যের সঙ্গে আরও একটা নতুন পালক জুড়েছে। এখানে এই ধরনের সার্জারির তেমন সরঞ্জাম নেই। তাতেও আমরা সফল হয়েছি। আরও সরঞ্জাম এলে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য পাবো।”

    এমন সার্জারি এর আগেও হয়েছে এই শহরে। লিফটে হাত আটকে গিয়েছিল এক কিশোরের। সে বার একবালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল ভাবে অস্ত্রোপচার হয় তার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More