রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

‘মেয়ে তো আর ফিরবে না, ওর অঙ্গেই আলো পাক অন্যেরা,’ বাইক দুর্ঘটনায় মৃত মণীষার অঙ্গদানে এগিয়ে এল পরিবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ে বেঁচে থাকবে আরও কয়েকজনের শরীরে। শোকের পাথর সরিয়ে এমনটাই জানালেন মানিকতলার বাসিন্দা মণীষা রায়ের (১৮) বাবা আশোক রায়। গত শনিবার জন্মদিনের রাতে বাইক দুর্ঘটনায় যাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে শহরের পথে। অ্যাপোলো গ্লেনেগেলস হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে ছিলেন মণীষা। মঙ্গলবার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, মেয়েটির  ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই মৃত মেয়ের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেয় তাঁর পরিবার। ব্যক্তিগত শোক ভুলে মানবিকতার নিদর্শন আরও একবার কলকাতার বুকে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ মণীষার অঙ্গদান হবে অ্যাপোলো হাসপাতালে। তাঁর বাবা অশোকবাবু জানিয়েছেন, মেয়ের লিভার ও দু’টো কিডনি নেওয়া হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর হার্টের অবস্থা ভালো ছিল না। তবে হার্ট ও অন্যান্য অঙ্গ নেওয়া হবে কি না সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি অশোকবাবু। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, নিয়মমাফিক সব কাজই করা হচ্ছে। এ দিন বিকেল থেকেই অঙ্গদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। গ্রহীতার খোঁজ চলছে। গ্রিন করিডর তৈরি করার ব্যাপারেও প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গতকাল, ১৩ অগস্ট ছিল বিশ্ব অঙ্গদান দিবস। সেটা অবশ্য মাথায় ছিল না মণীষার বাবার। এক বুক হাহাকার নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘মেয়েটা তো আর ফিরবে না। আগুনে পুড়ে ছাই হবে যাবে ওর শরীর। তাই আমরা নিজে থেকেই চেয়েছি ওর অঙ্গ নিয়ে বাঁচুক আরও কয়েকটা প্রাণ।’’

কী হয়েছিল শনিবার রাতে? মণীষার বাবা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি বিশেষ কাজে গিয়েছিলেন বারাসতে। ওই দিনই তাঁর মেয়ের জন্মদিন ছিল। বাড়িতে তাঁর খুড়তুতো বোন এসেছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ মণীষার বন্ধু অভিষেক রায়ের ফোন আসে। জন্মদিন সেলিব্রেট করার জন্য মণীষা ও তাঁর বোনকে বাইরে বেরোতে বার বার অনুরোধ করছিল সে। মৃতার বোন জানিয়েছেন, উল্টোডাঙা থেকে তাঁরা দু’জন অভিষেকের বাইকে ওঠেন।

অশোকবাবু জানিয়েছেন, রাতে কী হয়েছিল সবটাই তাঁর শোনা। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালাচ্ছিল অভিষেক। প্রথমে তাঁরা তিন জন নাকি গঙ্গার ঘাটে যান। পরে একটি বাইকে করে আরও দু’জন ওখানে আসে। তারাই অভিষেককে বাইক রেস করে কোলাঘাটে যেতে বলে। আপত্তি জানান মণীষা ও তাঁর বোন। অভিষেকের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় তাঁদের। এর পরে মণীষার বোনকে উল্টোডাঙা মোড়ে নামিয়ে দিয়ে মণীষাকে নিয়ে উর্ধ্বশ্বাসে বাইক ছুটিয়ে বেরিয়ে যায় অভিষেক।

মধ্য রাতে বেঙ্গল কেমিক্যাল মোড়ের কাছে রাস্তার রেলিং ভেঙে বেরিয়ে যায় তাদের বাইক। মণীষাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। অশোকবাবু জানিয়েছেন, রবিবারই মেয়ের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। রাতেই কোমায় চলে যান মণীষা। তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে মণীষার মৃত্যুর খবর জানানো হয় তাঁর পরিবারকে।

আরও পড়ুন:

ভয়, সংস্কার কাটিয়ে অঙ্গদান নিয়ে আরও আলোড়িত হোক বাঙালি

Comments are closed.