বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

তিনদিন ধরে বৃদ্ধার দেহ আগলে বসে স্বামী এবং মেয়ে! বেহালায় এ বার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেহালার সরশুনায় এ বার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া। তিনদিন ধরে মায়ের দেহ আগলে বসে রইলেন স্বামী এবং মেয়ে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দুর্গন্ধ পাড়ায় টেকায় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপর তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন। রবিবার দুপুরে সরশুনার একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের অনুমান, দিন তিনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। তাঁর নাম ছায়া চট্টোপাধ্যায়। বয়স ৮২। অনুমান, অপুষ্টি এবং বার্ধক্যজনিত অসুখের কারণেই মৃত্যু হয়েছে ছায়াদেবীর।

পুলিশ জানিয়েছে, এ বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যু হয় ছায়াদেবীর ছেলের। পচাগলা অবস্থায় ৫৬ বছরের দীপাঞ্জনের দেহ উদ্ধার করা সে সময়। তদন্তে জানা যায়, দীপাঞ্জনের মৃত্যুও হয়েছিল দেহ উদ্ধারের দিন তিনেক আগে। সে বারেও প্রতিবেশীরাই গন্ধে টিকতে না পেরে পুলিশকে খবর দেন। তারপর উদ্ধার হয় দেহ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই ভেঙে পড়েছিলেন চট্টোপাধ্যায় পরিবার। প্রতিবেশীদের কথায়, “অনেকদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিল গোটা পরিবার। সমস্যা এতটাই যে দীর্ঘদিন ধরে রান্নাও হয় না বাড়িতে। কোনও এক আত্মীয় খাবার পৌঁছে দিয়ে যান।”

পুলিশ জানিয়েছে, ছায়াদেবীর স্বামী শয্যাশায়ী। পুলিশের সঙ্গে আতঁর যেটুকু কথা হয়েছে তা খুবই অসংলগ্ন। এমনকী মৃতার মেয়েও পুলিশকে বলেছেন, “মা মারা যাননি। শরীর খারাপ হয়েছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কারও সঙ্গে বেশি মিশতেন না পরিবারের লোকজন। দীপাঞ্জনের মৃত্যুর পর থেকে নিজেদের আরও গুটিয়ে নিয়েছিলেন। এমনকী চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আর্থিক অবস্থাও যে দিনদিন খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছিল সে কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

Comments are closed.