শনিবার, অক্টোবর ১৯

এনআরএস-এ বিরল অপারেশন, সার্জারি ছাড়াই খাদ্যনালী থেকে বের করা হলো টিউমার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাদ্যনালীতে ঘাঁটি গেড়ে বসা পাঁচ সেন্টিমিটারের বড় আকারের টিউমারকে কাটাছেঁড়া না করেই অস্ত্রোপচার করে বাইরে বের করে আনলেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা। এই ধরণের বিরল অস্ত্রোপচার রাজ্যে এই প্রথম বলেই দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

২৭ বছরের প্রীতম সাউ-এর খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীর সংযোগস্থলে পাঁচ সেন্টিমিটারের থেকে বড় আকারের টিউমার হয়েছিল। এই টিউমারের জন্য প্রীতম খাবার খেলেও তা পৌঁছত না পাকস্থলীতে। খাদ্যনালীতেই তা আটকে থাকত। এর ফলে বাড়ছিল যন্ত্রণা। বমি হচ্ছিল প্রীতমের। এনআরএস হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা বলেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হলে প্রাণ সংশয় হতে পারে প্রীতমের।

এনআরএস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় এসোফেগাসিজাল লোয়ার এন্ড-এর টিউমার। কিন্তু এই টিউমার কাটাছেঁড়া করে অস্ত্রোপচার করতে হলে তাতে প্রীতমের প্রাণ সংশয় হতে পারে বলেই আশঙ্কা করেন চিকিৎসকরা। তাই একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয় প্রীতমের।

এন্ডোস্কপিক সাব মিউকোশল ডাইসেকশন করে দেড় ঘন্টার অস্ত্রোপচার করে প্রীতমের খাদ্যনালী থেকে বের করা হয় এই টিউমার। প্রথমে টিউমারটি ছ’টুকরো করা হয় খাদ্যনালীর ভিতরেই। তারপর খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর সংযোগ স্থল থেকে ধীরে ধীরে বাইরে বের করে আনা হয়। এর ফলে কোনও রকম কাটাছেঁড়াও করতে হয়নি। ডাক্তার মানস কুমার মণ্ডল-এর নেতৃত্বে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। ছিলেন ডাক্তার পিনাকী রায়ও।

এই অস্ত্রোপচারের পরেই এনআরএস হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরণের অস্ত্রোপচার এর আগে করা হয়নি। সার্জারি না করে আধুনিক পদ্ধতিতে টিউমারকে ভেঙে বের করে আনার ঘটনা এই প্রথম। এ বার ধীরে ধীরে ওষুধের মাধ্যমে একদম ঠিক হয়ে উঠবে প্রীতম।

এই ঘটনার পর রোগীর বাড়ির লোক জানিয়েছেন, প্রীতমের এই টিউমার হওয়ার পর থেকে খুব চিন্তায় ছিলেন তাঁরা। বিভিন্ন হাসপাতালে দেখিয়েছেন। সবাই বলেছে, সার্জারি করতে হবে। কিন্তু সার্জারির ঝুঁকি ছাড়াই যে ভাবে এই অসাধ্যসাধন করলেন নীলরতন সরকার হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা, তা সত্যিই অবাক করার মতো।

Comments are closed.