বুধবার, ডিসেম্বর ১১
TheWall
TheWall

যাদবপুরে হবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, গুঁড়িয়ে দেব কমিউনিস্ট ঘাঁটি, বিস্ফোরক দিলীপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : যাদবপুরে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে ধরে বিক্ষোভের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এ বার সেই ঘটনায় বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের দেশবিরোধী তকমা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বললেন, এগুলো বরদাস্ত করা হবে না। যেভাবে পাকিস্তানে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছি, সেভাবেই যাদবপুরে ঢুকে কমিউনিস্ট ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেব।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করেছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। দুপুরবেলা রাজ্য বিজেপি অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে তিনি বলেন, “রাজ্য জুড়ে অরাজকতা চলছে। ৬ ঘণ্টা ধরে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিগ্রহ করা হয়েছে। বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পলকেও হেনস্থা করা হয়েছে। অথচ উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, পুলিশ সবাই চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল।”

এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের প্রশংসা করেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল সেখানকার আচার্য। তাঁর অধিকার রয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার। উনি আইন জানেন, রাজনীতিও জানেন। যেভাবে উনি যাদবপুরে গিয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে বের করে এনেছেন, আমরা তার প্রশংসা করছি।”

বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে। এই প্রশ্ন করা হলে তার জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাফ জানিয়ে দেন, “ওখানে বাইরের ছেলেরা ঢুকছে। দেশবিরোধী কাজ হচ্ছে। পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কোনওভাবেই আমরা বরদাস্ত করব না। যেভাবে পাকিস্তানে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছি, সেভাবে যাদবপুরে ঢুকে কমিউনিস্ট ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেব। কাল ভাঙা হয়েছে। আবার ভাঙা হবে।”

এ দিকে শুক্রবার রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। সেখান থেকে আলোচনা সেরে বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, পুরো ঘটনায় রাজ্যের গাফিলতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না। এর পরেই বহিরাগত তত্ত্ব আনেন মুকুল। একটা ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমরা রাজ্যপালকে এইসব ছবি দেখিয়েছি। ছবিতে বাবুল সুপ্রিয়র চুল ধরে যাকে টানতে দেখা যাচ্ছে, সেই দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই নয়। সে সংস্কৃত কলেজের ছাত্র। কীভাবে বাইরের ছেলেকে ঢুকিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিগ্রহ করা হল, তার জবাব উপাচার্যকে দিতে হবে।”

বৃহস্পতিবার এবিভিপি-র নবীনবরণ উৎসব উপলক্ষ্যে বাবুল সুপ্রিয় গেলে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রায় সাত ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়েই আটকে থাকেন বাবুল। এর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ভাঙচুর হয় ইউনিয়ন রুমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ হয়।

এই পরিস্থিতিতে সেখানে গিয়ে পৌঁছন রাজ্যপাল তথা যাদবপুরের আচার্য জগদীপ ধনকড়। তিনি গিয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে নিজের গাড়িতে বসিয়ে বের করে নিয়ে আসেন। রাজ্যপালের গাড়ি ঘিরেও বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা।

রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে শুরু হয় সংঘাত। শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে জানান, রাজ্যকে না জানিয়েই সেখানে গিয়েছেন রাজ্যপাল। এটা সংবিধানবিরোধী। তার পাল্টা বিবৃতি রাজভবনের তরফে জারি করে বলা হয়, পুলিশের ডিজি, মুখ্যসচিব ও মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সবটা জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু অনেকক্ষণ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় রাজ্যপালকে।

Comments are closed.