বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

টালা বিভ্রাট: নামল না ৯ রুটের ৩৫০ বাস, চূড়ান্ত দুর্ভোগে নিত্যযাত্রীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিনে রাস্তায় নামল না ন’টি রুটের প্রায় ৩৫০টি বাস। সমস্যার মূলে টালা ব্রিজ।

মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। সেই পরীক্ষানিরীক্ষাতেই উঠে এসেছে টালা ব্রিজের বেহাল দশার কথা। পরিস্থিতি এতই সঙ্গিন যে পুরনো ব্রিজ ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই রিপোর্ট পেশ হওয়ার আগে থেকেই টালা ব্রিজে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন বাসের রুট। অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে ক্রমশ কমছে যাত্রী সংখ্যা। এ ক’দিনে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিও হয়েছে বাস মালিকদের। তাই ১৪ অক্টোবর, সোমবার শহরের বুকে নামেনি প্রায় ৩৫০টি বাস।

যে ন’টি রুটের বাস বন্ধ রয়েছে:-

৭৮- ব্যারাকপুর – ধর্মতলা
২১৪- সাজিরহাট – বাবুঘাট
২০১- নিমতা- এসডিএফ
এস ১৮৫- নিমতা- হাওড়া
৩৪বি- ডানলপ- ধর্মতলা
২২২- বনহুগলি- বেহালা চৌরাস্তা
৩৪ সি- নোয়াপাড়া- ধর্মতলা
২০২- নাগেরবাজার- সায়েন্স সিটি

৩২এ- দক্ষিণেশ্বর- সেক্টর ফাইভ

ছবিটা ঠিক কী রকম?

৩৪বি রুটের বাস ডানলপ থেকে ধর্মতলা যায়। বাসের সাধারণ রুট শ্যামবাজার থেকে কলেজস্ট্রিট হয়ে ধর্মতলা। টালা ব্রিজে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ার পর পরিবর্তন হয়েছে রুটে। তবে সেটা বড়ই অযৌক্তিক এবং অদ্ভুত বলে দাবি বাসের নিত্যযাত্রীদের। কারণ, এখন ৩৪বি রুটের বাস ডানলপ ব্রিজ ধরে এয়ারপোর্ট এবং কৈখালি হয়ে উল্টোডাঙা যায়। তারপর ফুলবাগান হয়ে ধর্মতলা ঢোকে। যাত্রীদের কথায়, “এভাবে রুট ঘোরালে কে বাসে উঠবে। মাঝপথে টালা ব্রিজের আগে পর্যন্ত স্টপেজের লোকগুলোও তো এই বাসে যাবে না।” এমনকি যিনি ডানলপে উঠে ধর্মতলা নামেন তিনিও ৩৪বি-তে যেতে রাজি নন। কারণ, নতুন রুটে গেলে গন্তব্যে পৌঁছতে প্রায় ১ ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে।

রুট ঘুরিয়ে দেওয়ায় বিরক্ত বাস মালিকরাও। তাঁরা বলছেন, “ভাড়া তো বাড়ানোর উপায় নেই। এদিকে তেলের খরচ বাড়ছে। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এক্সট্রা তেল খরচে লাগছে। এত লোকসানে কেন বাস চালাব। তাই বাস নামাইনি।”

সপ্তাহের প্রথম দিনেই কলকাতায় প্রায় ৩৫০টি বাস না চলায় দুর্ভোগে নিত্যযাত্রীরা। অফিস টাইমে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাঁরা। এরমধ্যেই এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ আচমকাই চিড়িয়া মোড়ে ব্যারিকেড করে রাস্তা আটকে দেয় পুলিশ। বলা হয় ছোট গাড়ি বা বাইকও শ্যামবাজারের দিকে যেতে পারবে না। কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে তুমুল বচসা শুরু হয় যাত্রীদের। মিনিট দশেক পরেই অবশ্য ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ।

পুজোর আগে থেকেই চলছে দুর্ভোগ। কবে সমস্যা মিটবে জানা নেই। তবে আগামী দিনে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ যে বাড়তে চলেছে তা নিয়ে আশঙ্কায় আমজনতা।

হয়তো সেই ছোট্ট গ্রামে দেখেছি বাঞ্ছারামকে: মনোজ মিত্র

Comments are closed.