রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

নতুন করে বাড়িতে ফাটল বৌবাজার এলাকায়, স্থগিত মেট্রোর কাজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৌবাজার বিপর্যয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন আড়াইশোরও বেশি। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে কমপক্ষে ১৮টি বাড়ি। শোনা যাচ্ছে সোমবার সকালে দুর্গা পিথুরি লেন এবং স্যাকরাপাড়া লেনের পর হিদরাম ব্যানার্জী লেনে এবং গৌর দে লেনেও অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে দেখা দিয়েছে ফাটল। বসে গিয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়িও। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

জানা গিয়েছে, মেট্রো কর্তৃপক্ষ এই এলাকার বেশ কিছু বাড়ি থেকেই অনেককেই গত ১৮ অগস্ট অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২১ অগস্ট হোটেলে ছিলেন তাঁরা। তারপর বাড়ি ফেরেন। সে সময় মেট্রোর কাজ চলাকালীন বাড়িতে যা ফাটল দেখা দিয়েছিল তা মেরামত করে দিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রবিবার রাতে ফের ওই এলাকার বেশ কিছু বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কিন্তু সুড়ঙ্গ কাটার আগে তো মাটি পরীক্ষা করা হয়, তাহলে এমনটা কী ভাবে হল? মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ সয়েল টেস্টের ক্ষেত্রে অনেকসময় এ ধরনের ওয়াটার পকেট যে রয়েছে তা ধরা পড়ে না। এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। ফলে বিপদের আগাম আভাস পাওয়া যায়নি।

শনিবার সন্ধে থেকেই শুরু হয়েছিল বিপত্তি। একের পর এক বাড়িতে দেখা দিয়েছিল ফাটল। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানেলে কাজ করার সময় একটি ওয়াটার পকেট ফেটে গিয়ে সুড়ঙ্গে জল ঢুকে গিয়েছিল। তাতেই শুরু হয় সমস্যা। যদিও মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, টানেল খোঁড়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়েই সুড়ঙ্গে জল ঢোকে। তবে সে সব ক্ষেত্রে সিমেন্ট দিয়ে জল আটকানো সম্ভব হয়। কিন্তু এ বার সমস্যা ছিল একটু বেশিই জটিল। সিমেন্ট দিয়ে জল আটকে জায়গা ভরাট করা সম্ভব হয়নি। উল্টে মেরামতির বদলে হু হু করে জল ঢুকে পড়ে টানেলে। তার জেরেই এই ফাটল দেখা দিয়েছে। কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যে সব বাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলি পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়া হবে। বাকি বাড়ির ফাটলের মেরামতিও করা হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। 

সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে অন্তত তিনটে বাড়ি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অনেক বাড়িই। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গ্রাউটিংয়ের কাজ। সুড়ঙ্গের নীচে যে সব জায়গায় গর্তের মধ্যে জল জমা হচ্ছে, সে খানে সিমেন্ট দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে। পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হাজির রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। রয়েছেন মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররাও। আপাতত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের বৌবাজার হয়ে শিয়ালদা রুটের কাজ বিশবাঁও জলে। আর তাতেই এই মেট্রো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠছে নানান প্রশ্ন।

Comments are closed.