ক্রেতারাই জিতে যাচ্ছেন, আম ধারণাকে বদলে দিয়ে এই লকডাউনেও ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে ভাল সংখ্যায়

বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, করোনা মহামারীর কারণে বেসরকারি ক্ষেত্রে অনেকের কর্মসংস্থানের সংকট হয়েছে। কারও বা বেতন কমেছে। তা ছাড়া ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে ফ্ল্যাট বিক্রি সাধারণ অবস্থার তুলনায় কম হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু একেবারে তলানিতে ঠেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল না কখনওই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যে মহামারী ছড়িয়েছে তাতে আর পাঁচটা ক্ষেত্রের মতো ধাক্কা লেগেছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও। তা অনিবার্যই ছিল। কারণ, লকডাউনের জন্য এক টানা দীর্ঘ সময় নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। ফ্ল্যাট বিক্রিও করা যায়নি। ফলে অনেক প্রোজেক্টেরই মূলধনের সমস্যা হয়েছে। কিছু প্রোজেক্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া অনেক ডেভেলপার নতুন প্রোজেক্ট শুরু করার যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তাও আপাতত স্থগিত রেখেছেন।

    কিন্তু ফ্ল্যাট বিক্রি কি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে? বাজারের অভিজ্ঞতা কী?

    বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, করোনা মহামারীর কারণে বেসরকারি ক্ষেত্রে অনেকের কর্মসংস্থানের সংকট হয়েছে। কারও বা বেতন কমেছে। তা ছাড়া ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে ফ্ল্যাট বিক্রি সাধারণ অবস্থার তুলনায় কম হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু একেবারে তলানিতে ঠেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল না কখনওই। কারণ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মচারী, স্কুল শিক্ষক, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও ব্যাঙ্কের কর্মী অফিসারদের বেতনে হাত পড়েনি। বেসরকারি ক্ষেত্রের একটা বড় অংশের বেতনেও হাত পড়েনি বা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। উল্টে গৃহ ঋণে সুদের হার কমে গিয়েছে ঝপ করে। ফলে এই বেতনভুক শ্রেণির সামনে যেমন প্রকৃত ব্যবহারের জন্য ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনই বিনিয়োগের জন্যও মন্দ সময় নয়। আর সেটা আন্দাজ করে যে ডেভেলপাররা ফ্ল্যাটের দাম ঠিকঠাক নির্ধারণ করেছেন, ক্রেতাদের টানতে ছাড় দিয়েছেন বা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করে প্রকৃত ক্রেতা তথা ‘টার্গেটেড বায়ারের’ কাছে পৌঁছতে পেরেছেন, তাঁরা ফল পেয়েছেন।

    সিদ্ধা গ্রুপের কথাই ধরা যাক। লকডাউনের মধ্যে সিদ্ধা বেশ কয়েকটি অফার নিয়ে এসেছে। যেমন, এক—দামের নিশ্চয়তা তথা প্রাইজ অ্যাসুরেন্স গ্যারান্টি। লকডাউনের মধ্যে যেসব ফ্ল্যাট বুক করা হয়েছে তার দাম যদি এ বছর ৩১ ডিসেম্বরের আগে কমে যায়, তা হলে সেই সুবিধা ক্রেতারা অবশ্যই পাবেন। দুই—লকডাউন যতদিন চলবে ততদিন বুকিং মূল্যের ওপর কোনও ক্যানসেলেশন চার্জ লাগবে না। অর্থাৎ বুকিং অ্যামাউন্ট সম্পূর্ণ ফেরতযোগ্য।

    সিদ্ধা তাদের ভার্চুয়াল সাইট ভিজিট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করেছে যেখানে ক্রেতারা নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট বা রেডি ফ্ল্যাট দেখতে পাচ্ছেন। ফ্ল্যাটের বিপণনে ডিজিটাল মাধ্যম ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এই মন্দার পরিবেশেও ভাল সংখ্যায় ফ্ল্যাট বুক হয়েছে। যেমন সিদ্ধা ইডেন লেকভিলে, সিদ্ধা ওয়াটারফ্রন্ট, সিদ্ধা সাবার্বিয়া, সিদ্ধা হ্যাপিভিলে, সিদ্ধা গ্যালাক্সিয়া, সিদ্ধা স্কাই, মধ্যমগ্রামের সিদ্ধা টাউন ও মুম্বইয়ের সিদ্ধা স্কাই ওয়াডলা এবং সিদ্ধা সিক্রুক -এর মতো প্রজেক্টে ৮৯ টি ফ্ল্যাট (ইউনিট) বিক্রি হয়েছে। সিদ্ধা হ্যাপিভিলেতে বিক্রি হয়েছে ৩৫ টি ফ্ল্যাট, যা বেশ উল্লেখযোগ্যই বলা যায়।

    সিদ্ধা গ্রুপ দু’টি নতুন টাওয়ারের কাজ শুরু করেছে সিদ্ধা গ্যালাক্সিয়ায়। এই প্রোজেক্ট গোড়া থেকে ভাল সাড়া ফেলেছে। কারণ, সংস্থার দাবি এখানেই হতে চলেছে বিশ্বের দীর্ঘতম রুফটপ স্কাইওয়াক।

    ইডেন রিয়েলিটিও পিছিয়ে নেই। তারাও ডিজিটাল মাধ্যমে বিপণনেই জোর দিয়েছে। লকডাউনের মধ্যেই তিন হাজারের বেশি ক্রেতা তাদের বিভিন্ন প্রোজেক্টে ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সোলারিস জোকা এবং সোলারিস সিটি শ্রীরামপুরে প্রায় ২৯ টি ফ্ল্যাট (ইউনিট) বিক্রি করেছে। সোলারিস বনহুগলি প্রোজেক্টের কাজও শুরু হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে সেখানে ৬০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চলছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সোলারিস বনহুগলির প্রথম ফেজের কাজ শেষ করে সামনের বছর মার্চ মাসের মধ্যে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। তবে তার ৬ মাস আগেই তথা এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রেতাদের পজেশন দেওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

    শুধু কলকাতা শহরে নয়, শহরতলিতেও পরিস্থিতির তুলনায় ভাল সংখ্যায় ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে। রাজ্যের টিয়ার-টু শহরে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল বেঙ্গল সৃষ্টি। লকডাউনের মধ্যে তাদের ফ্ল্যাট অভিজ্ঞতা কেমন তা জানতে চাইলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, লকডাউনের জন্য প্রথম দিকে সবই বন্ধ ছিল। কিন্তু তার পর আনলক শুরু হতেই তাদের বিভিন্ন প্রোজেক্টে এখনও পর্যন্ত ২০ টি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। আরও লোকজন আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রোজেক্টগুলোতে নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। আগের মতো কর্মী অবশ্য কাজ করছেন না। তবে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নির্মাণকর্মী বিভিন্ন প্রোজেক্ট সাইটে কাজ করছেন। বেঙ্গল সৃষ্টি সম্প্রতি আসানসোলে টাউন হাউজ নামে তাদের ডুপ্লেক্স হোমের দ্বিতীয় ফেজের কাজ শুরু করেছে। সেখানে আশাপ্রদ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথার উপরে ছাদের প্রয়োজন তথা চাহিদা মানুষের সব সময়েই থাকবে। মনে রাখতে হবে, যাদের উপার্জন অটুট রয়েছে, তাঁরা এই সময়ে দু’রকম সুবিধা পাচ্ছেন। এক, গৃহ ঋণে সুদের হার কম। দুই ফ্ল্যাটের বাজার দরও কম। এটা একটা অভূতপূর্ব সুযোগ। বাজারে কারেকশন শুরু হলে, অর্থাৎ বাজার ছন্দে ফিরলে এই সুযোগ নাও থাকতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More