সোমবার, অক্টোবর ১৪

কলকাতার দুর্গামণ্ডপে একসঙ্গে আজান-চণ্ডীপাঠ-চার্চবেল, এফআইআর হল উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেই এ বারের থিম করতে চেয়েছিল বেলেঘাটা ৩৩পল্লী। কিন্তু তা করতে গিয়ে নবমীর দুপুরে এফআইআর হল উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে। শান্তনু সিংহ নামের এক আইনজীবী ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেছেন স্থানীয় থানায়। সেই তালিকায় নাম রয়েছে পুজো কমিটির সম্পাদক-সহ মোট আটজনের।

সারা প্যান্ডেলে ঝুলছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান-সহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক। মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বারের ছোট ছোট অবয়ব দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা মণ্ডপ। আর মৃদু আওয়াজে কখনও হচ্ছে চণ্ডীপাঠ, কখনও বাজছে আজান আবার কখনও চার্চবেল। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মানুষের মুখে মুখে এই অভিনব থিমের কথা ছড়াতে ভিড়ও হচ্ছিল দেদার। কিন্তু শেষপর্যন্ত বিষয়টি গড়াল থানাপুলিশ পর্যন্ত।

শান্তনু সিংহের অভিযোগ, “মণ্ডপে আজান বাজিয়ে আসলে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে।” সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেছেন, “আমি কোনও ধর্মকে অশ্রদ্ধা করছি না। কিন্তু কখনও শুনেছেন মসজিদে গীতা পাঠ হচ্ছে? কিংবা চার্চে চণ্ডীমন্ত্র পড়া হচ্ছে?” তিনি এই থিমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই শাসক দলেরই ছাতার নীচে থাকা লোকজন। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশেই পুজো নিয়ে এই ধরনের কাজকারবার করা হয়েছে।”

যদিও উদ্যোক্তারা এই বিষয়টিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের এই সম্প্রীতির সংস্কৃতি আমাদের ঐতিয্য। সেটাই আমরা তুলে ধরেছি। মানুষ এসে প্রশংসা করছেন। এটাই আমাদের পাওনা। কে কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না।” তাঁদের আরও বক্তব্য, “যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজে বিজেপি-র ধামা ধরা। প্রশাসনের তরফে কিছু জানতে চাইলে, আমরা নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা দেব।”

Comments are closed.