মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

স্যার, আমার সব চুরি গেছে, শুধু গামছা সম্বল, আরজিকরে সিভিক ভলান্টিয়ারের কান্না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার নামকরা সরকারি হাসপাতাল। এমারজেন্সির সামনে গামছা পরে ছোটাছুটি করছেন এক যুবক। কখনও পুলিশকে বলছেন। কখনও এর-ওর হাতে-পায়ে ধরছেন। হাউ হাউ করে কাঁদছেন। কী হয়েছে তাঁর? হাসপাতাল চত্বরে এক সুলভে ঢুকে তাঁর সর্বস্ব খোয়া গেছে। টাকা, এটিএম কার্ড, মায় অন্তর্বাস অবধি নিয়ে গেছে চোর।

ঘটনাটি আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। স্বরূপনগর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার বিপ্লব বিশ্বাস নিজের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন অর্থোপেডিক বিভাগে। ডাক্তার দেখানোর পর তিনি ঢোকেন এমারজেন্সির পাশের সুলভ শৌচালয়ে। ব্যাগ রেখে পিছন ঘুরে গামছা পরছিলেন স্বরূপ। গামছা পরে পিছন ঘুরে দেখেন ব্যাগ উধাও। পরনের গামছা ছাড়া কিচ্ছু নেই তাঁর।

ওই অবস্থাতেই তিনি আরজিকর হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে থাকা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অভিযোগ করেন। বলেন, “স্যার, আমার সব চুরি গেছে। শুধু গামছাটুকুই সম্বল।” এ কথা শুনে ফাঁড়ির এক সহানুভূতিশীল পুলিশ কর্মী বিপ্লবকে একটি প্যান্ট ও গেঞ্জি দেন। সঙ্গে তাঁর হাতে ৫০ টাকা দেন। সেই নিয়েই তিনি বাড়ি ফেরেন। যাওয়ার আগে বিপ্লব বলেন, “ডাক্তার দেখিয়ে আমি সুলভে ঢুকে ব্যাগ রেখে বাথরুমে ঢোকার জন্য গামছা পরছিলাম। হঠাৎ দেখলাম ব্যাগ উধাও। ব্যাগের মধ্যে জামা-কাপড়, সোয়েটার, মাফলার, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, এটিএম কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড, নগদ টাকা, ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ডাক্তার দেখানোর টিকিট, বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট, এক্স রে প্লেট মায় অন্তর্বাস অবধি ছিল। সব চুরি গেছে। আমি কীভাবে বাড়ি যাব সেটাই ভাবছি।”

আরও কয়েকজন রোগীর বাড়ির লোকেরা অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনা নতুন নয়। বেশ কয়েকদিন ধরেই এই সুলভ শৌচালয়ে ঢুকলেই বাইরে থেকে ব্যাগ চুরি হচ্ছে। বেশিরভাগ রোগীই গ্রাম থেকে আসেন। তাই অনেকেই ভয়ে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি চলে যান। কেউ কেউ অভিযোগ জানান বটে, কিন্তু এখনও কোনও সুরাহা হয়নি।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ শুদ্ধোদন বটব্যালও এই ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরণের বেশ কিছু অভিযোগ আসছে। এটা মেনে নেওয়া যাউ না। ওই সুলভ শৌচালয়ের দায়িত্বে যে আছে, তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রশাসনিকভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চোর রেহাই পাবে না।

আরও পড়ুন

আইসিইউতে ভর্তি সোনু নিগম, হাসপাতালের বিছানা থেকে ছবি শেয়ার করে কী বললেন ভক্তদের?

Shares

Comments are closed.