বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক মানিক মজুমদারের বাড়িতে সিবিআই, ডেরেককেও নোটিস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীঘাটের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল সিবিআই।

তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলার’ হিসাবনিকেশ জানতে চেয়ে এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক মানিক মজুমদারকে নোটিশ পাঠিয়েছিল সিবিআই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবির ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছিল এই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মানিকবাবুর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে এ ব্যাপারে তাঁকে জেরা করেন সিবিআইয়ের অফিসাররা।

শুধু তা নয়, সিবিআই সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় তৃণমূল নেতা তথা বাংলার শাসক দলের প্রধান মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে ফের নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁকেও জাগো বাংলার হিসাবপত্র ও মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবির ব্যাপারে জেরা করা হতে পারে বলে খবর।

যদিও এ ব্যাপারে সিবিআইয়ের তরফে বৃহস্পতিবার কোনও বিবৃতি এখনও দেওয়া হয়নি।

হরিশ মুখার্জি রোডে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অফিসেই বসেন মানিকবাবু। একটি সূত্রের খবর, এর আগে ওই ঠিকানাতেই মানিকবাবুকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সিবিআই কর্তারা। কিন্তু সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি। পরে মানিকবাবুর বাড়িতে এই নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অনতি দূরে কালীঘাট বাজারের কাছে একটি বাড়িতে থাকেন মানিকবাবু।

তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বার বার নোটিশ দেওয়ার পরেও মানিকবাবু সিবিআই দফতরে যাননি। তিনি সিবিআইকে নাকি জানিয়েছিলেন, তাঁর ৭২ বছর বয়স হয়েছে। তাই কিছু জানার থাকলে সিবিআই তাঁর বাড়ি যেতে পারেন। বুধবার সিবিআই যাবে বলে কথা ছিল। কিন্তু যায়নি। বৃহস্পতিবার গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইদানীং সিবিআই তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবির প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। গত সপ্তাহে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, ছবি বানানোর নাম করে রোজভ্যালির মালিক গৌতম কুণ্ডুর থেকে ২৪ কোটি টাকা নিয়েছিলেন মোহতা। কিন্তু তা দিয়ে তিনি কোনও সিনেমা বানাননি। ওই টাকা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি কিনেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে শিবাজি পাঁজাকেও ডেকেছিল সিবিআই। ওই ছবির প্রদর্শনী যেহেতু টাউনহলে হয়েছিল, তাই কলকাতা পুরসভার থেকে এ ব্যাপারে তথ্যও চাওয়া হয়েছিল সিবিআইয়ের তরফে।

এরই পাশাপাশি জাগো বাংলার খরচ খরচা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সি। এ ব্যাপারে তৃণমূলের বর্তমান এক সাংসদ ও এক প্রাক্তন সাংসদকে এরই মধ্যে জেরা করেছেন সিবিআই অফিসাররা।

তবে বুধবারও রামপুরহাটের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সিবিআইকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চক্রান্ত করছে বিজেপি। সেই সঙ্গে এ ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেছেন, ” ছবি ব্রিক্রি করে তাঁর অ্যাকাউন্টে ১ টাকাও ঢুকেছে বলে যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তা হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

Shares

Comments are closed.