বুধবার, মার্চ ২০

শিশুর খাবারে শুয়ে আছে শুঁয়োপোকা, সৌজন্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবারের মধ্যে পড়ে আছে শুঁয়োপোকা, মাছের আঁশ, মুরগির পালক। সেই খাবারই দেওয়া হচ্ছে শিশুবিভাগের বাচ্চাদের। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, দিনের পর দিন এমনই মারাত্মক ঘটনা ঘটে চলেছে খোদ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অবশেষে সোমবার সমস্বরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে আর পাঁচটা বাচ্চার মতোই মায়ের সঙ্গে রয়েছে রীতেশ মালাকার। বলতে গেলে দুধের শিশু। বয়স তিন বছর। বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের বালুরঘাটে। ওইটুকু শিশুর প্রস্রাবের দ্বারে সমস্যা হওয়ায় উত্তর দিনাজপুর থেকে তাকে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন রীতেশের মা-বাবা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অস্ত্রোপচার হয় তার। আপাতত সেখানেই সে ভর্তি। হাসপাতালের তরফে দেওয়া হয়েছিল খাবার। রীতেশকে তা খাইয়ে দিচ্ছিলেন মা মনি মালাকার। কিন্তু খাবার দেখেই আঁতকে ওঠেন তিনি। গা গুলিয়ে ওঠে! বাঁধাকপির তরকারির মধ্যে পড়ে রয়েছে আস্ত একটা শুঁয়োপোকা।

আরও পড়ুন গড়িয়াহাট-কাণ্ডে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী, আগুনের উৎস নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা

এই খাবার দেখেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি রীতেশের বাবা বিভাস মালাকারকে ফোন করেন। তিনি তখনকার মতো বাইরে থেকে খাবার কিনে আনেন। বিভাসবাবুর অভিযোগ, ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্সদের এই কথা বললে তাঁরা যা বলেছেন, তা আরও ভয়াবহ। নার্সরা বলেন, কিছু করার নেই। ওই খাবারই খাইয়ে দিন।

খাবার দেখে প্রতিবাদ করেন শিশুবিভাগে ভর্তি থাকা আরও কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, কারও খাবারে মাছের আঁশ, তো কারও খাবারে মুরগির পালক পড়ে রয়েছে। কিন্তু কোনও হেলদোল নেই খাবারের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের। তাঁরা অভিযোগ করেন, এই ঘটনা নতুন নয়। এভাবেই দিনের পর দিন খাবার দেওয়া হয় রাজ্যের অন্যতম সেরা মেডিক্যাল কলেজে। অনেকেই এর আগে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।

অভিভাবকদের কেউ কেউ বলেন, রান্নাঘরে আঢাকা অবস্থায় রাখা থাকে খাবার। তার মধ্যে পোকা ঘুরে বেড়ায়। সেই খাবারই দেওয়া হয় রোগীদের। রীতেশের বাবা বিভাস মালাকার অভিযোগ করেন, শিশু বিভাগের ক্ষেত্রে তো হাসপাতালের একটু যত্নবান হওয়া উচিত।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে হাজির হন কয়েকজন সাংবাদিক। তখন টনক নড়ে নার্সদের। তাঁরা গিয়ে সুপারকে বিষয়টি জানান। রীতেশের মা ও আরও কয়েকজন অভিভাবক লিখিত অভিযোগ জমা দেন সুপারের কাছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সুপারের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিভাস বাবু।

যদিও মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল, ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সুপার ও নার্সিং সুপার মেডিক্যাল কলেজের রান্নাঘর পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও রোগীর আত্মীয়দের একাংশের বক্তব্য, এই অভিযোগ অনেক দিনের। এতদিনেও কিছু হয়নি। এরপরেও কিছু হবে বলে মনে হয় না।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.