মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

স্বেচ্ছায় রক্ত দিলেই মিলবে টাটকা ইলিশ বা ইন্ডাকশন ওভেন, বিতর্কে কলেজ স্কোয়ারের ক্লাব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বেচ্ছায় রক্ত দিলেই মিলবে টাটকা ইলিশ। অথবা ইন্ডাকশন ওভেন। বা দুটোই। শুক্রবার সকাল থেকেই মানুষজনের হইহই দেখা গিয়েছিল কলেজ স্কোয়ারের মির্জাপুর বান্ধব সম্মিলনী ক্লাবের বাইরে। এলাকার লোকজন তো বটেই, আশপাশের পাড়া থেকেও রক্ত দিতে ভিড় জমিয়েছিলেন লোকজন। একহাতে ইলিশ, অন্য হাতে ইন্ডাকশনের বড় পলিথিন ব্যাগ ঝুলিয়ে ক্লাব থেকে হাসিমুখে বেরোতে দেখা গেছে লোকজনকে। তবে এটা ছিল সকালের ছবি। বেলা গড়াতেই ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করে ক্লাব। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের চোখ রাঙানিতে শেষমেশ রক্তদান কর্মসূচিতে ইতি টানতে বাধ্য হন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

মানিকতলা ব্লাড ব্যাঙ্ক ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে ছিল ছোড়া দূরত্বে মির্জাপুর বান্ধব সম্মিলনী। সূর্য সেন স্ট্রিটের একটি ক্লাব। প্রতিবছরই রক্তদান কর্মসূচি ঘিরে নানারকম পরিকল্পনা থাকে এই ক্লাবের। গত চার বছর ধরেই স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের উপহার দিচ্ছে এই ক্লাব। ক্লাবের সম্পাদক সঞ্জয় নন্দী বললেন, ‘‘রক্তদান মহান কাজ। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের আমরা কিছু না কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। এ বছর উপহারের তালিকায় ছিল ইলিশ মাছ আর ইন্ডাকশন ওভেন। তার আগের বছর দিয়েছিলাম মিক্সার মেশিন। তারও আগের মোবাইল ফোন, টেবিল ফ্যান ও ছাতা।’’

উদ্যোক্তাদের দাবি, বেলা বাড়তেই স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা এলে এই রক্তদান শিবির তুলে দিতে বলেন। সরকারি আধিকারিকরা জানান, উপহারের বিনিময়ে রক্তদান বেআইনি। সঞ্জয়বাবু জানিয়েছেন, ৬০ জন স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এসেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের চাপে পড়ে রক্তদাতাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে।

‘‘আমরা ছোটখাটো ক্লাব। সরকারি নির্দেশিকা জানি না। উপহারের বিনিময়ে রক্ত দেওয়া ঠিক নয় কে বলল? আইনের কোন ধারায় লেখা রয়েছে? লেখা না থাকলে, আইন না থাকলে মানব কেন,’’ দাবি ক্লাবের সম্পাদক সঞ্জয়বাবুর। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা কোনও রকম জোরজবরদস্তি করছি না। প্রলোভন দেখিয়ে লোক ডাকাও হচ্ছে না। যাঁরা নিজে থেকে রক্ত দিতে আসছেন, তাঁদেরই উপহার দিচ্ছি। এতে অন্যায়টা কোথায়।’’

পাড়ার যে কোনও ক্লাব হোক বা বৃহত্তর কোনও রক্তদান কর্মসূচি–উপহারের বিনিময়ে রক্তদান  শিবিরের জন্য অনুমতি নিতে গেলে প্রথমেই জানিয়ে দেওয়া হয়,  এইভাবে রক্ত নেওয়া যাবে না। কারণ, এতে দূষিত রক্ত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উপহারের লোভে যে কেউ রোগ গোপন করে রক্ত দেন। তা ছাড়া, রক্তদান শিবিরগুলিতে সে ভাবে শারীরিক পরীক্ষাও হয় না। সঞ্জয়বাবুর বক্তব্য, ‘‘বিয়েবাড়িতে কি আমরা খালি হাতে যাই! কিছু না কিছু উপহার নিয়েই যাই। এটাও ঠিক সেই রকম।’’

ক্লাব উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, তৃণমূলের তাবড় নেতামন্ত্রী রক্তদান শিবিরে উপহার দেন। আর ছোটখাটো ক্লাব বলেই যত দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রক্তের বিনিময়ে উপহার দেওয়া হচ্ছে এটা একেবারেই ঠিক নয়। বরং স্বেচ্ছায় রক্তদান করে ফেরার সময় রক্তদাতাদের হাতে সামান্য উপহার তুলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিফলন

Comments are closed.