রবিবার, আগস্ট ২৫

পুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিস: ধর্নায় বসে গেল বঙ্গ জননী বাহিনী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার দুর্গাপুজোর উপর আঘাত করার ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্রীয় সরকার, তৃণমূলের বঙ্গ জননী বাহিনীর ধর্না মঞ্চ থেকে এই অভিযোগই তুললেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজারা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে ধর্নায় বসেছে তৃণমূল। চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত।

রবিবার দুপুরে তিন তিনটি টুইট করে পুজো কিমিটিগুলির উপর আয়কর বিভাগের নজরদারির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত জানুয়ারি মাসেই কলকাতার প্রায় ৪০টি পুজো কমিটিকে ডেকে আয়কর কর্তারা বলে দেন, এ বছরের পুজো থেকে তিরিশ হাজার টাকার উপর সমস্ত রকম পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে টিডিএস কেটে নিতে হবে। এবং তা আয়কর দফতরে জমা দিতে হবে। জানুয়ারি মাসে যে দিন পুজো কমিটিগুলিকে ডেকে এ কথা বলছে ইনকাকম ট্যাক্স, সে দিনই বারাসতে যাত্রা উৎসবের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “পুজো কমিটির থেকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন চাওয়া হচ্ছে। একটা ক্লাবের গায়ে হাত লাগলেও ছেড়ে কথা বলব না। আমি সব ক্লাবকে বলে দেব, ডাকলে একদম যাবেন না।”

পুজোর যখন আর দিন পঞ্চাশ বাকি, তার আগে বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব নিয়ে বাঙালির আবেগকেই তৃণমূল উস্কে দিতে চাইল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ বার লোকসভার ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বাংলায় যতবার এসেছেন, ততবার বলেছেন বাংলায় দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো শান্তিতে করা যায় না। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তার পাল্টা হিসেবেই তৃণমূল দুর্গাপুজোয় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামল।

এ দিন কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “পুজো কমিটিগুলিকে যদি ট্যাক্স নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলি কী হবে? এটা বাংলার উৎসবের উপর আক্রমণ।” এ দিন ৯৫ পল্লী, হিন্দুস্থান পার্কের মতো কলকাতার বেশ কয়েকটি পুজো কমিটিও উপস্থিত হয়েছিল তৃণমূলের ধর্নায়।

এমনিতে দুর্গাপুজোয় বাংলায় কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু তাতে সরকারের কোষাগারে ঢোকেনা কিছুই। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য সমস্ত লেনদেনকে করের আওতাভুক্ত করা। তাছাড়া কলকাতার বহু পুজোতে একটা সময়ে চিটফাণ্ডের টাকা ঢুকত। অনেকের মতে সেগুলিকেও আতস কাচের নীচে রাখতে চাইছে আয়কর দফতর। বিজেপি-র বক্তব্য অবশ্য, এটা একটা আর্থিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন। যাঁরা তিরিশ হাজারের উপর টাকা নিচ্ছেন পুজো কমিটির কাছ থেকে, তাঁদের কর দেওয়ারও ক্ষমতা আছে। গেরুয়া নেতাদের আরও বক্তব্য, আসলে বাংলায় সরকারের কোষাগার থেকে টাকা লুঠ হয়। যে পুজো কমিটি লক্ষ লক্ষ টাকা বাজেট করে পুজো করে। তাদেরও সরকার ১০ হাজার টাকা দেয়।

 

 

Comments are closed.