রবিবার, অক্টোবর ২০

দিদির পাড়ার পুজোয় অমিত শাহের ফিতে কাটা হচ্ছে না! সঙ্ঘশ্রী হাতছাড়া বিজেপি-র  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহখানেক আগেই শোনা গিয়েছিল এ বার দুর্গাপুজোয় বড় চমক দিতে পারে বিজেপি। একেবারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় এসে পুজো উদ্বোধন করতে পারেন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বোধহয় হচ্ছে না। কালীঘাট সঙ্ঘশ্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুজোয় বিজেপি-র কোনও সাহায্য নেওয়া হবে না।

শনিবার বৈঠক ডেকেছিলেন পুজো কমিটির সভাপতি শিবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায়ও। কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকের একটাই সিদ্ধান্ত, বিজেপি আর্থিক সাহায্য করতে চাইলেও তা নেওয়া হবে না।

গতবারও এই পুজোর ফিতে কেটেছিলেন মমতা। এই পুজো কমিটির তালিকায় নাম ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। একাংশের সংবাদমাধ্যমে এমনও বলা হয়, এ বার নাকি কার্তিকবাবুকেও সেই তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কার্তিকবাবু জানিয়েছেন, “এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ছোট, হয়তো মিনি স্কার্ট পরতেন, তখন থেকে সঙ্ঘশ্রীর ঠাকুর দেখতে আসেন। এখানে সব ধর্ম, সব বর্ণের মানুষ আছেন। এখানে আমি বহু দিন আছি। সঙ্ঘশ্রী ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। এখানে রাজনীতি ঢোকানো মুশকিল। কিন্তু এই যে বার বার রাজনীতি আনার চেষ্টা হচ্ছে, এটা এলাকার মানুষ মেনে নেবে না।” পুরনো কমিটিই যে এ বারের পুজো পরিচালনা করছে তা-ও স্পষ্ট করেন কার্তিকবাবু।

জানা গিয়েছিল রাজ্য বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতার উদ্যোগেই অমিত শাহকে দিয়ে উদ্বোধন করানো প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে অনেকেই মনে করছেন, সেটা আন্দাজ করেই শাসক দল তৎপর হয়ে ওঠে। এবং আটকায়। যদিও এ ব্যাপারে ক্লাবের কোনও পদাধিকারিই মুখ খোলেননি।

রাসবিহারী বিধানসভার বাদামতলা আষাঢ় সংঘের পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা বিজেপির প্রাক্তন যুব মোর্চার সভাপতি তুষার কান্তি ঘোষ। গত বছর এই পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে থিম সজ্জায় আধার কার্ডের ব্যবহার দেখে বেজায় চটেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙঘশ্রী বদলে দক্ষিণ কলকাতার ওই পুজোটিকে টার্গেট করতে পারে বিজেপি।

এমনিতেই বাংলার বিজেপি নেতাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া নির্দেশ, দুর্গাপুজোকে জনসংযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সত্যি সত্যি যদি কালীঘাটে দিদির পাড়্য অমিত শাহ এসে পুজো উদ্বোধন করতেন, তা নিয়ে যে জোর চর্চা হতো এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, শাসকদল সেটাই ঠেকাতে চেয়েছিল। শেষমেশ সঙ্ঘশ্রীর পুজো গেরুয়া শিবির কব্জা করতে পারল না বলেই মনে করছেন অনেকে।

Comments are closed.