রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

পচে গিয়ে বাদ যেতে বসেছে যুবকের পা, ফের কাঠগড়ায় এসএসকেএম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুর ভর্তি নিয়ে হয়রানির ঘটনার ২৪ ঘণ্টাও কাটল না, ফের কাঠগড়ায় এসএসকেএম। অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলাতেই পা বাদ যেতে বসেছে ২৭ বছরের যুবকের।

ভাঙড়ের সোন্দলিয়ার বাসিন্দা আজগার মোল্লার অভিযোগ, পায়ের প্লাস্টিক সার্জারি করার কথা ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা করেই ছেড়ে দিয়েছেন ডাক্তাররা। তাতেই পচন ধরেছে পায়ে। দগদগে ঘা গোড়ালি ছাড়িয়ে ক্রমশ উঠে আসছে উপরে।

গত ১২ অগস্ট বাসন্তী এলাকায় কলকাতার দিক থেকে আসা একটি সিটিসি বাসের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন আজগারের ছেলে এনামুল। তাঁর বাঁ পায়ের পাতার উপর দিয়ে চলে গিয়েছিল বাসের চাকা। ভাঙড় থানার পুলিশ ও স্থানীয়দের সাহায্যে এনামুলকে প্রথমে ভর্তি করা হয় নলমুড়ি হাসপাতালে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ডাক্তাররা এনামুলকে কলকাতার ন্য়াশনাল মেডিক্য়াল কলেজে রেফার করেন। অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিক্যালে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় এনামুলের। পায়ের প্লাস্টিক সার্জারির জন্য ফের এনামুলকে রেফার করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

এনামুলের আত্মীয় এসরাফুলের দাবি, পায়ের পাতায় কয়েকটা সেলাই করে রোগীকে ছেড়ে দেন এসএসকেএমের ডাক্তাররা। বাড়িতে ফিরে পায়ে যন্ত্রণা শুরু হলে পরের দিন, ১৩ অগস্ট ফের হাসপাতালের আউটডোরে নিয়ে যাওয়া হয় এনামুলকে। সে বারও শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। বাড়ি ফিরে ফের যন্ত্রণা শুরু হয় এনামুলের। দিন কয়েকের মধ্যে ঘা আরও দগদগে হয়ে ওঠে। ১৫ অগস্ট তাঁকে ফের এসএসকেএমে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পা কেটে বাদ দেওয়ার কথা বলেন।

এসরাফুলের অভিযোগ, “সামান্যতম চিকিৎসাও করেননি এসএসকেএমের ডাক্তাররা। বার বার হাসপাতালের দরজায় ঘুরে ঘুরে হয়রান হতে হয়েছে। এখন ডাক্তাররা বলছেন পা কেটে বাদ দিতে হবে। ২৭ বছরের যুবকের পা বাদ গেলে সে খাবে কী? পরিবার তো ভেসে যাবে।”

এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ভবনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসরাফুল। ঘটনা প্রসঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়েছে, গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.