শনিবার, মার্চ ২৩

কলকাতায় শিক্ষামন্ত্রীর কনভয় আটকে বিক্ষোভ বিজেপির, আটক ২৩ কর্মী-সমর্থক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাঁথি কাণ্ডের রেষ এখনও কাটেনি। মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সভার পর তৃণমূল-বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে অনেক জায়গায়। সেই ঘটনারই প্রতিবাদে বুধবার প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি নিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। মিছিলের ঠিক আগেই সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ। প্রতিবাদ মিছিলের জন্য তখন রাজ্য বিজেপির সদর দফতরের সামনে জড়ো হয়েছেন প্রচুর বিজেপি কর্মী-সমর্থক। ঘটনাচক্রে তখনই সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল শিক্ষামন্ত্রীর কনভয়। জানা গিয়েছে, যে লেন দিয়ে যাওয়ার কথা, যানজটের কারণে তার উল্টোদিকের লেন দিয়ে যাচ্ছিল পার্থ বাবুর কনভয়।

আরও পড়ুন দ্য ওয়াল এক্সক্লুসিভ: উনিশের ভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কি মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে পারেন মমতা!

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি দেখতে পেয়েই উপস্থিত বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তা আটকান বলে অভিযোগ। তারপর তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়। কালো পতাকা উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। এমনকী পার্থ বাবুর গাড়িতে ঘুষি, লাথি মেরে ভাঙচুর করার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। জানা গিয়েছে, বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রায় ১০ মিনিট সেখানে আটকে ছিল শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি।

তারপরেই পার্থ বাবুর নিরাপত্তারক্ষী ও সেখানে উপস্থিত পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি সামাল দেন। ১০ মিনিট পর ফের সেখান থেকে রওনা দেয় শিক্ষামন্ত্রীর কনভয়। এই খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে তাঁর খোঁজ খবর নেন।

এই ঘটনার পরেই শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে হামলার অভিযোগে ২৩ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও বঙ্গ বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়িতে মোটেই হামলা চালানো বা ভাঙচুর হয়নি। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়িতে হামলা হয়েছে। কিন্তু সে ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সভার পর কাঁথির বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়ে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ। এই নিয়ে রাতে স্বরাষ্টমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়। রাত সওয়া ১০টা নাগাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মন্ত্রকের তরফে টুইট করে বলা হয়, পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি-র রাজনৈতিক সভায় যোগ দিতে যাওয়া লোকেদের উপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে রাজনাথ সিংহ উদ্বিগ্ন। এই হিংসার ঘটনা নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, হিংসার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল তাদের যেন অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়।

রাত ১১ টা নাগাদ পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন জানিয়েছেন, বিজেপি কর্মীরা যে ভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এই প্রশ্নও তুলেছেন যে, ওরা রাজনৈতিক কর্মী নাকি বাইরে থেকে আনা ভাড়াটে গুণ্ডা? সভার পর তারা যে ভাবে ভাঙচুর চালিয়েছে তা বরদাস্ত করা যায় না।

কাঁথির ঘটনা নিয়ে বুধবার কেন্দ্রকে রিপোর্ট দিয়েছে নবান্ন। সূত্রের খবর, রিপোর্ট দিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। দোষীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সূত্রের আরও খবর, ঘটনায় বিজেপির কর্মী সমর্থক জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পাঠানো কেন্দ্রকে দেওয়া রিপোর্টে। তবে এই রিপোর্ট নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া মেলেনি কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.