বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

মায়ের হাতের রান্না: অভিজিতের গতকালের ডিনারে ছিল মুড়িঘণ্ট-কালিয়া, আজ দুপুরে পাতে পড়বে ইলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অর্থনীতিতে নোবেল জয় করে ঘরে ফিরেছে ছেলে। কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখার পর থেকেই বিরাম নেই। ফুলের মালায় সাজানো হয়েছে বিমানবন্দর, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়ি। রীতিমতো শাঁখ বাজিয়ে বরণ করা হয়েছে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে মা এতে খুশি নন। একটা দিনই তো ছেলেটা বাড়িতে এসেছে। কবে আবার ফিরে যাবে কে জানে। তাই যেটুকু সময় আছে তাতেই ছেলের জন্য অনেক পরিকল্পনা মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

বিমানবন্দরে গাড়ি পাঠাতে নাকি নিষেধ করেছিলেন অভিজিৎ। তাই গাড়ি পাঠাননি। মা অপেক্ষা করছেন বলে বিমানবন্দরে বেশি সময় নষ্ট না করে অভিজিৎ সোজা বাড়ির পথে রওনা দেন। রাতে বাড়িতে ঢোকেন তিনি। ছেলেকে কী দেবেন মা? নির্মলাদেবী বলেন, “ও বলেছিল ভালো চা কিনে রেখো। তাই এক প্যাকেট ভালো দার্জিলিং চা কিনে রেখেছি। পাঠিয়ে দেব।” অবশ্য নোবেলজয়ী বউমা এস্থার ডাফলোর জন্যও উপহার রয়েছে। গোলাপি রংয়ের একটি বালুচরি শাড়ি তিনি দেবেন এস্থারকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের দিন গিয়ে এই শাড়িটি দিয়ে এসেছেন নির্মলাদেবীকে।

ছেলের খাওয়ার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন মা। মঙ্গলবার ডিনারে অভিজিতের পছন্দের কাবাব, রুই মাছের কালিয়া, মুড়িঘণ্ট, চাটনি ও পায়েস রান্না করেছিলেন তিনি। বুধবার দুপুরে হবে ইলিশ মাছ। মায়ের আক্ষেপ, “ওদেশে তো আর এসব পায় না। তাই যখনই বাড়িতে আসে আমি রান্না করে খাওয়াই।”

মঙ্গলবার সন্ধে ৭টা ২০মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন অভিজিৎ। নোবেলজয়ীকে উত্তরীয় ও ফুলের স্তবক দিয়ে বিমানবন্দরেই শুভেচ্ছা জানান মেয়র ববি হাকিম ও রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন দমদম এলাকার বহু সাধারণ মানুষও। বিমানবন্দর থেকে ঘরে ফেরার পথেও অনেক মানুষের ভিড়। এলইডি আলোয় দীপাবলির আগের কলকাতা শহরও স্বাগত জানায় ঘরের কৃতী ছেলেকে। বাড়ির চারপাশও সাজানো হয় আলোয়, ফুলে। আবাসনে পা রাখতেই বেজে ওঠে শাঁখ। জয়ধ্বনি ওঠে। হবে নাই বা কেন? এমন গর্ব আর কটা আবাসনের হয়!

Comments are closed.