রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

ট্যাংরায় জোড়া খুন: স্ত্রী এবং বাবার মাথায় ও মুখে লোহার বালতি মেরে খুন ছেলের!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরায় জোড়া খুন। কলকাতার চায়নাটাউনে শুক্রবার রাতে উদ্ধার হয়েছে এক মহিলা এবং এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ। লোহার বালতি দিয়ে আঘাত করে মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। মাথাতেও ছিল ভারী আঘাতের চিহ্ন। দু’জনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয় বৃদ্ধকে। চিকিৎসা চলাকালীন মারা যান তিনি। পুলিশ জানিয়েছেন, মৃত দুই ব্যক্তিই ট্যাংরার এই চিনা পরিবারের সদস্য। এবং ওই বৃদ্ধ এই মহিলার শ্বশুর হন। মৃতদের নাম লি হান মিহা (৬০) এবং তাঁর শ্বশুর লি কা সাং।

শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ট্যাংরার ওই চিনা পরিবারের শ্বশুর এবং পুত্রবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথম থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল যে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বাড়ির কর্তা লি ওয়ান সাং। তদন্ত শুরু হতেই লি-র বিরুদ্ধে প্রমাণ পায় পুলিশে। এরপর স্ত্রী লি হান মিহা এবং বাবা লি কা সাংকে খুনের অভিযোগে লি ওয়ান সাংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মহিলার স্বামী। এ নিয়ে রোজই অশান্তি হতো বাড়িতে। তবে অন্য কোনও কারণে পারিবারিক অশান্তির জেরেও এই খুন হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। খুনের সঠিক কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে দেহগুলিও।

পুলিশের অনুমান শুক্রবার রাতে কোনও কারণে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন লি ওয়ান সাং। সেই সময়ে রাগের বশে আচমকাই স্ত্রীর মাথায় লোহার বালতি দিয়ে আঘাত করেন লি ওয়ান সাং। তাঁর বাবা সবটা দেখে ফেলায় লি তাঁর উপরেও চড়াও হন ওই লোহার বালতি নিয়েই। দু’জনেরই মাথায় এবং মুখে আঘাত করেন। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনেই বাড়ির উঠোনে লুটিয়ে পড়লে পাঁচিল টপকে বেরিয়ে আসেন অভিযুক্ত। ঘন্টাখানেক পর ফের বাড়িতে ফিরে আসেন। দরজা বাইরে থেকে ধাক্কা মেরে না খোলায় পাঁচিল টপকে বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। বাড়ির ভিতর স্ত্রী ও বাবার রক্তাক্ত দেহ দেখে হতবাক হওয়ার ভান করেন। এরপরেই চিৎকার করে ডাকেন প্রতিবেশীদের। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও।

ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের প্রথম সন্দেহ হয় লি ওয়ান সাংকেই। এরপর খুনে ব্যবহৃত বালতির গায়ে রক্ত ও আঙুলের ছাপ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন, পাঁচিলের গায়ে হাতের ছাপ এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। অনুমান করে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে লি ওয়ান সাং-ই। জেরার জন্য আটক করা হয় তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় নিজের অপরাধ কবুল করেছে অভিযুক্ত। ধৃতের বিরুদ্ধে আইপিসি ৩০২ (খুন), ৩০৭ (খুনের চেষ্টা) ও ৩২৬ (অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক আঘাত) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হবে।

Comments are closed.