সোমবার, অক্টোবর ১৪

সপ্তমীতে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে, দশমীর সকালে মৃত্যু হল তেরোর রূপসার, পুজোয় ফের ডেঙ্গি বলি শহরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গি-অসুরের আক্রমণে পুজোটা দেখে যেতে পারল না বেলেঘাটার রূপসা। “অনেক জামাকাপড় কিনেছিল। আনন্দ করবে বলেছিল। সব শেষ হয়ে গেল,” ফোনের ওপারে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না বাবা চন্দ্রনাথ দাস। নবমীর ঢাকে বিষন্নতার সুর বেজে উঠল। আরও একটা ডেঙ্গি মৃত্যু দেখল শহর কলকাতা।

শরীর দুর্বল ছিল এক সপ্তাহ ধরেই। সপ্তমীর সকালে ধুম জ্বর আসে মেয়েটার, জানালেন চন্দ্রনাথ বাবু। বেলেঘাটারই একটা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রূপসাকে। রক্ত পরীক্ষার পরে ডাক্তাররা জানান, রক্তে ডেঙ্গির জীবানু মিলেছে। রক্তচাপও ওঠানামা করছে। দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করতে হবে। তার পর কেটে যায় একটা সন্ধ্যা। চন্দ্রনাথবাবুর দাবি, আইসিইউ তো দূর, ঠিক মতো চিকিৎসাই শুরু হয় না রূপসার।

“ওরা বলে মেয়ের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। অষ্টমীর সকালেই আইসিইউ-তে দেওয়া হবে ওকে। কিন্তু সেটা করেননি ডাক্তাররা। আমাকেও ঠিকমতো কিছু জানাননি। এ দিকে অনেক টাকা বিল দিয়েছি আমি,” দাবি রূপসার বাবা চন্দ্রনাথবাবুর। জানিয়েছেন, পুরো দুটো দিন প্রায় বিনা চিকিৎসায় ছিল রূপসা। গতকাল সোমবার নবমীর বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ডাক্তারের অভাবে আর চিকিৎসা করা সম্ভব নয় রূপসার। তাকে রেফার করা হয় এনআরএস হাসপাতালে। ওই দিনই সন্ধেয় মেয়েকে নিযে তড়িঘড়ি এনআরএসে ছোটেন চন্দ্রনাথবাবু। চিকিৎসাও শুরু হয়। তবে রূপসা বাঁচেনি। আজ দশমীর সকালেই নিজের উমাকে হারান চন্দ্রনাথবাবু।

রূপসা দাস

“আমার মেয়ের যদি ঠিকমতো চিকিৎসা হত, একটু আগে হাসপাতাল জানাত যে ডাক্তার নেই, তাহলে হয়তো মেয়েটা বেঁচে যেত,” হাহাকার করে উঠলেন চন্দ্রনাথবাবু।

পুজোর আগে থেকেই কলকাতায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ায় উদ্বিগ্ন ছিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা। পুরসভার রিপোর্ট বলছে, বাইপাসের ধারে পুরসভার ১২ নম্বর বরো এবং টালিগঞ্জ-যাদবপুর এলাকা নিয়ে ১০ নম্বর বরোতেই প্রায় ৬০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। নিউ মার্কেট এলাকার রুহুল মল্লিক (১১) ও রিজেন্ট কলোনির প্রজ্ঞা সাহার (৮) পর পঞ্চমীর দিনে মৃত্যু হয়েছিল কাঁকুড়গাছির বাসিন্দা বৃষ্টি দাসের (৯)। এ বার বর্ষা আসার অনেক আগে থেকেই ডেঙ্গির দাপট দেখা যাচ্ছে হাবড়া-অশোকনগর-বাদুরিয়া সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায়। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। সরকারি মতে জেলায় ডেঙ্গিতে মৃতের সংখ্যা ২৩। বেসরকারি মতে এই সংখ্যা আরও বেশি। হাসপাতালগুলিতে উপচে পড়ছে জ্বরের রোগীর ভিড়। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের দাবি,  চলতি বছরে জ্বর-ডেঙ্গিতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। মানুষ সচেতন হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও কমানো যেত।   যদিও পুরসভা ও সরকারি আধিকারিকদের দাবি উড়িয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার থেকে আবর্জনা এখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। ঝোপ-জঙ্গল সাফ হচ্ছে না। মশা মারা তেলও দেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে ডেঙ্গি মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

Comments are closed.