মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

বেপরোয়া ঘাতক জাগুয়ার: জামিন নাকচ, ১২ দিনের পুলিশ হেফাজত আরসালান মালিকের ছেলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে গেল কলকাতার বিখ্যাত বিরিয়ানি চেন আরসালানের মালিক আখতার পারভেজের ছেলে আরসালান পারভেজের। তাকে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

রবিবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ( দায়িত্বপ্রাপ্ত ) অলকানন্দা রায়ের এজলাসে তোলা হয় আরসালানকে। সেখানে সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও স্নেহাংশু ঘোষ বলেন, এই ঘটনার তদন্ত সবে শুরু হয়েছে। যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাকে পরপর সাজাতে গেলে অভিযুক্তকে জেরা করতে হবে পুলিশকে। তাঁরা এও অভিযোগ করেন, যে সময় দুর্ঘটনা ঘটে, সে সময় সিগন্যাল ভেঙেছিল অভিযুক্ত। তার গাড়ির গতিও অস্বাভাবিক বেশি ছিল।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আরসালানের আইনজীবী দেবজ্যোতি সেনগুপ্ত দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের গাড়ি কিয়স্কের নীচে থাকা তিনজনকে ধাক্কা মারেনি।

দু’পক্ষের কথা শোনার পর বিচারপতি আরসালানকে ২৯ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট ফাইল করতে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার গভীর রাত ১টা ৫০ নাগাদ। পুলিশ সূত্রে খবর, বিড়লা তারামণ্ডল থেকে কলামন্দিরের দিকে যাচ্ছিল ঘাতক জাগুয়ারটি। অন্যদিকে তখন পার্ক স্ট্রিট থেকে মিন্টো পার্কের দিকে যাচ্ছিল একটি মার্সিডিজ গাড়ি। লাউডন স্ট্রিট ও শেক্সপিয়ার সরণির সংযোগস্থলে প্রথমে প্রবল গতিতে এসে জাগুয়ারটি ধাক্কা মারে মার্সিডিজে।

এই ধাক্কায় মার্সিডিজের চালক ও আরোহী আহত হন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে এয়ার ব্যাগ থাকায় বেঁচে যান তাঁরা। দুটি গাড়িরই এয়ার ব্যাগ খুলে যায়। তবে মার্সিডিজে ধাক্কা মেরেই থেমে যায়নি জাগুয়ার। পুলিশ জানিয়েছে, তার গতি এতই বেশি ছিল যে তারপর পাশের পুলিশ কিয়স্কে ধাক্কা মারে সেটি। ধাক্কার জেরে কিয়স্কটি হেলে যায় পাশে। ভাগ্যক্রমে সেই সময় সেখানে কোনও পুলিশকর্মী ছিলেন না। সেই কিয়স্কের পাশেই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তিনজন দাঁড়িয়েছিলেন বলে খবর। তাঁদেরও পিষে দেয় জাগুয়ার।

পুলিশ জানিয়েছে, মার্সিডিজের ভিতরে ছিলেন অমিত ও কণিকা কাজারিয়া। তাঁরা দু’জনেই ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে ভর্তি। অমিতের ডান কানের চোট গুরুতর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্লাস্টিক সার্জারি করে অমিতের ডান কানের অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মাথা, হাত, বুকেও আঘাত রয়েছে। সিটি স্ক্যান করা হচ্ছে। কণিকা এখনও ট্রমায় রয়েছেন। তাঁর পিঠেও চোট রয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে আসেন শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। তাঁরা তিন পথচারী ও মার্সিডিজের দুই আরোহীকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যান এসএসকেএম-এ। সেখানে ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তৃতীয় ব্যক্তি ও মার্সিডিজের দুই ব্যক্তি এসএসকেএম-এ ভর্তি রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দু’জনের নাম কাজি মহম্মদ মইনুল আলম ( ৩৬ ) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়া ( ২৮ )।

মইনুল যশোহরের ঝিনাইদহের বাসিন্দা। গ্রামীণ ফোনে কাজ করার সূত্রে তিনি ঢাকায় থাকতেন। তাঁর বন্ধু তানিয়া ঢাকায় সিটি ব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন মইনুলের তুতোভাই কাজি সফি রহমতউল্লা। তিনিও ঝিনাইদহের বাসিন্দা। তিনজনেই শেক্সপিয়র সরণির একটি রেস্তোরাঁ থেকে ফিরছিলেন। বৃষ্টির জন্য একটি পুলিশ কিয়স্কে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২২ বছরের আরসালান পারভেজ লন্ডনের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। কয়েকদিনের ছুটিতে সে বাড়ি এসেছিল। শুক্রবার রাতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিল আরসালান। তারপরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, পারভেজকে গ্রেফতার করার পরে তার বিরুদ্ধে মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট ও একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলা দায়ের করা হয়েছে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকেও।

Comments are closed.