কেরলের সিরিয়াল কিলার: ছ’টা নয় বরং ন’টা খুন করেছেন জলি জোসেফ, তাঁর নিশানায় ছিল দু’টি শিশুও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমার সন্তানকেও খুন করেছে জলি, পুলিশের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এলসাম্মা। জলি জোসেফের প্রথম স্বামী রয় টমাসের কাকার স্ত্রী। এলসাম্মার ছেলে সুনিশের মৃত্যু হয়েছিল বাইক দুর্ঘটনায়। মহিলা দাবি করেছেন, দুর্ঘটনা নয় বরং জলিই খুন করেছিল তাঁর ছেলেকে। সুনিশের আর এক তুতো ভাই ভিনসেন্টের মৃত্যুর জন্যও জলিকেই দায়ী করেছেন এলসাম্মা। ভিনসেন্টকে নিজের ঘরের সিলিং থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে দেখা গিয়েছিল।

    স্বামী-সহ নিজের পরিবারের ছ’জনকে খুনের অভিযোগে গত শনিবার কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা জলি জোসেফকে গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। পুলিশ জানিয়েছে, এই গৃহবধূই এখন দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর মহিলা সিরিয়াল কিলার। একজন হাসিখুশি চেহারার, শান্ত মেজাজের মহিলা কীভাবে খুনি হয়ে গেলেন, সেটা এখনও রহস্য তদন্তকারীদের কাছে। শুধু সম্পত্তির লোভ নয়, পুলিশের ধারণা জলি মানসিক বিকারজনিত রোগের শিকার।

    জলি ছাড়াও আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জলির বর্তমান স্বামী শাজু, জলিকে সায়ানাইড পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে এমএস ম্যাথু এবং প্রাজিকুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যাথু একটি গয়নার দোকানের কর্মী এবং প্রাজিকুমার গয়না বানান।  খুনে তারা জলিকে কীভাবে সাহায্য করেছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার কেজি সিমন জানিয়েছেন, ধৃত চারজনকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। স্থানীয় আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে শুধু ছ’জন নয়, পরিবারের আরও তিনজনকে খুন করেছেন জলি। তাঁর নিশানায় ছিল দুটো বাচ্চাও।

    ইদ্দুকির কাট্টাপানার বাসিন্দা জলি। পুলিশ সুপার সিমন জানিয়েছেন, জলি আগে বলেছিলেন তিনি নাকি কোঝিকোড় এনআইটি-তে অধ্যাপনা করতেন। পরে সেখানকার রেজিস্টার পঙ্কজাকশানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এনআইটিতে এমন কোনও মহিলা ছিলেন না যাঁর নাম জলি। পুলিশ জানিয়েছে, বারে বারেই বয়ান বদলেছেন জলি। নিজের ভুয়ো পরিচয় দিয়েছেন। এখনও অনেক কথা চেপে গেছেন তিনি।

    কোঝিকোড়ের সম্ভ্রান্ত ক্যাথলিক পরিবারের সদস্য জলি। ৪৭ বছরের এই সিরিয়াল কিলার জানিয়েছেন, প্রথম খুনটা তিনি করেন ২০০২ সালে। প্রথম শিকার ছিলেন তাঁর শাশুড়ি আন্নামা টমাস। ৫৭ বছর বয়সী আন্নাম্মা আচমকাই মারা যান। গোটা ঘটনাটা এমনভাবে সাজিয়েছিলেন জলি যাতে মনে হয় স্বাভাবিক মৃত্যু। তদন্ত শুরু হলেও সেটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। তার ঠিক ছ’বছর পর ২০০৮ সালে আন্নাম্মার স্বামী টম মারা যান। বলা হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টমের মৃত্যু হয়েছে। সন্দেহ হয়নি পুলিশেরও।

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুটি খুনের মাঝে অনেকটা সময় রাখতেন জলি যাতে পুলিশ কোনও রকম যোগসূত্র খুঁজে না পায়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। তৃতীয় খুন ২০১১ সালে। ৪০ বছর বয়সে একই ভাবে মৃত্যু হয় তাঁদের ছেলে তথা অভিযুক্ত জলির স্বামী রয় টমাসের। এ বার টনক নড়ে পুলিশের। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রিপোর্টে বিষক্রিয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তবে এর পর আর তদন্ত সে ভাবে এগোয়নি। সাইরো-মালাবার গির্জার অধীনস্থ সমাধিক্ষেত্রে তাঁদের চার জনকেই কবর দেওয়া হয়।

    রয় টমাসের মৃত্যুর ঠিক দু’বছর পর, ২০১৬ সালে টমাসের খুড়তুতো ভাই শাজু-র স্ত্রী এবং দু’বছরের মেয়ে অ্যালফনসার মৃত্যু হয়। পর পর মৃত্যুতে বিপর্যস্ত পরিবার এ বার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। তদন্ত শুরু হয় জোরকদমে। এরই মধ্যে  শাজুর সঙ্গে দ্বিতীয় বার বিয়ে হয় জলির। শ্বশুর রয় টমাসের উইল মাফিক সমস্ত সম্পত্তির উপর নিজের মালিকানা দাবি করে জলি।  বাধ সাধেন জলির দেওর মোজো। তাকেও খুন করে জলি। রহস্যমৃত্যুর জট খুলতে গিয়ে কবর খুঁড়ে নিহতদের মৃতদেহের ফরেন্সিক পরীক্ষা হয়। তাতে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু খেয়েছিলেন। প্রত্যেকের শরীরে সায়ানাইডের অস্তিত্ব মেলে।  তদন্তকারীরা জানান, প্রতিটা খুনই সায়ানাইড খাইয়ে করেছিলেন জলি। প্রতিটি খুনের সময় জলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More