সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

চাঁদের আঁধার পিঠে এখন কী করছে ‘বিক্রম’? কী ভাবে ল্যান্ড করেছিল সে? সম্ভাব্য ছবি সামনে আনতে চলেছে নাসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করতে পারেনি ল্যান্ডার বিক্রম, এটা নিশ্চিত করেছে ইসরো। মহাকাশবিজ্ঞানীদের ধারণা, গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে চাঁদের মাটিতে সজোরে ধাক্কা খেয়েছে ল্যান্ডার, যাকে মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘হার্ড ল্যান্ডিং।’  এখন বিক্রম কাত হয়ে চাঁদের মাটিতে পড়েছে, নাকি সামান্য হেলে চাঁদের ধুলোj (Lunar Dust) মধ্যে কার্যহীন হয়ে পড়ে রয়েছে, সেটা জানা যাবে অরবিটারের পাঠানো অপটিক্যাল ইমেজে থেকেই। তার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে বিজ্ঞানীদের। তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, দক্ষিণ মেরুর আঁধারে বিক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং ল্যান্ড করার মুহূর্তের সম্ভাব্য ইলাস্ট্রেশন সামনে আনতে পারে তারা। এর থেকেই একটা ধারণা জন্মাবে সাধারণ মানুষের মনে।

৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইসরো জানায়, সফট ল্যান্ডিং-এর আগে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার উচ্চতায় আচমকাই সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয় ল্যান্ডার। তার পর থেকেই উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন বিজ্ঞানীরা। ইসরো চেয়ারম্যান শিবন জানিয়েছিলেন, আশা নিভে যায়নি। সময় এখনও কিছু বাকি। বিক্রমের সঙ্গে ঠিক যোগাযোগ করা যাবে। ইতিমধ্যেই অরবিটারের থার্মাল ইমেজ জানান দিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ পিঠেই নেমেছে ল্যান্ডার। তবে তার সঠিক অবস্থান জানানো যায়নি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে দক্ষিণ মেরুর ওই নির্দিষ্ট প্রান্তের উপর দিয়ে যাবে অরবিটার, যেখানে ল্যান্ড করার কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। সেই সময়ই দক্ষিণ মেরুর ওই এলাকার ছবি তুলে পাঠাতে পারবে অরবিটার।

বিক্রমের অবস্থা যাই হোক না কেন, ভারতের চন্দ্রযাত্রা যে বিফল হয়নি সে কথা আগেই জানিয়েছে নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযান যে কোনও মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসেই একটা চ্যালেঞ্জ। ইসরো সেখানে ৯৫ শতাংশ সফল। ৫ শতাংশ ধোঁয়াশা রয়েছে শুধু ল্যান্ডারের পরিণতি নিয়ে। সেটা জানার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কম্যান্ড নেটওয়ার্ক (ISTRAC) টিম। নাসা জানিয়েছে, ইসরোর পরবর্তী ঘোষণার আগেই ল্যান্ডারের কিছু সম্ভাব্য ইলাস্ট্রেশন সামনে আনতে পারে তারা। যেখানে ডায়াগ্রাম করে দেখানো হবে কী ভাবে বিক্রম হার্ড ল্যান্ড করতে পারে চাঁদের মাটিতে এবং তার জেরে বর্তমানে বিক্রমের ্অবস্থা ঠিক কেমন হতে পারে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করতে হলে কী কী অসুবিধা হতে পারে সেটা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, চাঁদের মাটিতে যে ধুলোর স্তর রয়েছে তার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য মেলেনি। তবে জানা গেছে, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি বা অন্য কোনও মহাজাগতিক রশ্মি চাঁদের মাটিতে সরাসরি আছড়ে পড়ার সময় এই সূক্ষাতিসূক্ষ ধূলিকণাগুলিকে আঘাত করে। এই ধূলো সাধারণত অনু, পরমানু দিয়ে তৈরি। মহাজাগতির রশ্মির ধাক্কায় এগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ তরঙ্গ তৈরি হয়। ফলে একটি বিরাট এলাকা জুড়ে ধুলোর ঝড় শুরু হয়। এর রেডিয়েশনের বাধা কাটিয়ে অবতরণ করা সহজ কাজ নয়।

আরও পড়ুন:

চাঁদের ধুলো মারাত্মক, দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করাই বিপজ্জনক, চন্দ্রযান যতটা পেরেছে ইতিহাস: ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি

Comments are closed.