চাঁদের ধুলো মারাত্মক, দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করাই বিপজ্জনক, চন্দ্রযান যতটা পেরেছে ইতিহাস: ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের দক্ষিণ মেরু ছুঁয়েছে ভারতের চন্দ্রযান ২, এটা নিশ্চিত। এখন ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ কেমন আছে? কী অবস্থায় ল্যান্ড করেছে? অক্ষত রয়েছে নাকি ভেঙেচুরে গেছে, তার খোঁজ চালাচ্ছে ইসরো। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, কাত হয়ে চাঁদের মাটিতে ‘ক্র্যাশ ল্যান্ডিং’ হলে ল্যান্ডারের ফের জেগে ওঠার সম্ভাবনা কম। তবে আশা আছে। ভারতের চন্দ্রযাত্রার প্রশংসা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ বার মুখ খুলল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি, ইএসএ-ও।

‘‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযান খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে বিপদ। চাঁদের অজানা আঁধার দিকের রহস্যের পর্দা মানুষ এখনও খুলতে পারেনি। দুর্গম ওই প্রান্তে চন্দ্রযান যে পৌঁছতে পেরেছে সেটাই ইতিহাস,’’ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল ইএসএ। তবে শেষ মুহূর্তে সেটা বাতিল হয়ে যায়। ২০২০ সালে কানাডা ও জাপানের স্সে এজেন্সির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ফের চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যান পাঠাতে পারে ইএসএ।

চাঁদে যান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি

ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে তিন দিন কেটে গেছে। ইসরোর কন্ট্রোল রুমে মনিটরে চোখ রেখে এখনও অধীর অপেক্ষায় মহাকাশবিজ্ঞানীরা। অরবিটার যে কোনও মুহূর্তে সঙ্কেত পাঠাতে পারে, এমন আশাই করছে ইসরো। মঙ্গলবার ইসরোর তরফে টুইট করে জানানো হয়, বিক্রমের অবস্থান জানান চেষ্টা করছে অরবিটার। তার অপটিক্যাল ইমেজে সেটা ধরা দিলেই রেডিও যোগাযোগের চেষ্টা চলবে জোরকদমে। বিক্রমকে জাগিয়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু হবে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করতে হলে কী কী অসুবিধা হতে পারে সেটা জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, চাঁদের মাটিতে যে ধুলোর স্তর রয়েছে তার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য মেলেনি। তবে জানা গেছে, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি বা অন্য কোনও মহাজাগতিক রশ্মি চাঁদের মাটিতে সরাসরি আছড়ে পড়ার সময় এই সূক্ষাতিসূক্ষ ধূলিকণাগুলিকে আঘাত করে। এই ধূলো সাধারণত অনু, পরমানু দিয়ে তৈরি। মহাজাগতির রশ্মির ধাক্কায় এগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ তরঙ্গ তৈরি হয়। ফলে একটি বিরাট এলাকা জুড়ে ধুলোর ঝড় শুরু হয়। এর রেডিয়েশনের বাধা কাটিয়ে অবতরণ করা সহজ কাজ নয়।

বিপজ্জনক চাঁদের ধুলো (Lunar Dust)

এই ধুলোর ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ফোর্স চন্দ্রযানের ল্যান্ডারের টার্মিনেটরকে বিকল করে দিতে পারে। সেই কারণেই হয়তো ল্যান্ড করার সময় ল্যান্ডার কোনও সঙ্কেত পাঠাতে পারেনি অরবিটারে। ইএসএ-র জ্যোতির্বিদ ইউজিন কারনানের কথায়, ‘‘চাঁদের ধুলো বা লুনার ডাস্টের সঙ্গে মোকাবিলা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। স্পেসক্রাফ্টের বাইরে তো বটেই, ভিতরেও হানা দেয় এই ধুলোর ঝড়। ফলে বেশি সময় টিকে থাকাই মুশকিল হয়।’’

আরও পড়ুন:

চাঁদের মাটিতে কেমন আছে বিক্রম, আশঙ্কা বাংলার বিজ্ঞানীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More