সোমবার, নভেম্বর ১৮

পৃথিবীর কক্ষে তিন ঘরের বাড়ি! স্পেস স্টেশনে থাকতে পারবেন তিন নভশ্চর, জানাল ইসরো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রযানের পর ভারতের পরবর্তী বড় মিশন গগনযান। মহাকাশচারীদের পিঠে নিয়ে দিব্যি মহাশূন্যে চষে বেড়াবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই মহাকাশযান। গগনযানকে মহাকাশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে ২০২১-২২ সাল নাগাদ। তার আগেই নভশ্চরদের বিশ্রাম নেওয়ার একটা পাকাপাকি জায়গা বানিয়ে ফেলবে ইসরো। এতদিন মহাকাশে বসে গবেষণা চালানোর একমাত্র ঠিকানা ছিল আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (আইএসএস)। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছেন, আর আইএসএস নয়, এবার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্পেস স্টেশনে বলেই গবেষণা চালাবেন নভশ্চররা।

আগামী বছর ডিসেম্বরে থেকেই স্পেস স্টেশন বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। পৃথিবীর সর্বনিম্ন কক্ষপথে একটা আস্ত বাড়ি বানানো তো মুখের কথা নয়! পৃথিবী থেকে পাড়ি দেওয়া মহাকাশচারীদের থাকার ঘর করতে হবে। আলট্রাভায়োলেট রশ্মি বা যে কোনও মহাজাগতিক রশ্মির বিকিরণ থেকে স্পেস স্টেশনকে রক্ষা করার মতো পরিকাঠামো থাকতে হবে। স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে তাপমাত্রার একটা ভারসাম্য থাকবে। সব মিলিয়ে কাজটা খুবই কঠিন। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মালমশলা নিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে জড়ো করার চেষ্টা হবে। মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে  Space Docking Experiment (Spadex)। এই স্প্যাডেক্সের কাজ করবে দুটি স্যাটেলাইট।

পিএসএলভি রকেটে চাপিয়ে দুটি উপগ্রহকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাইরে। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতেই স্পেস স্টেশন বানানোর জায়গা বের করে ফেলবে তারা। এর পর শুরু হবে বাড়ি বানানোর প্রক্রিয়া Docking Technology। শিবন জানিয়েছেন, এর জন্য দুটি স্যাটেলাইটের গতি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে হবে। না হলে তারা নিজেদের মধ্যেই ধাক্কাধাক্কি করবে। মহাশূন্যে সবকিছুই ভর-শূন্য দশায় থাকে। অর্থাৎ মাইক্রোগ্র্যাভিটি (মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব যেখানে নেই) কাজ করে। কাজেই সব দিক ভেবেচিন্তে, বিচারবিবেচনা করেই নকশা বানাতে হবে স্যাটেলাইট দুটিকে।

গগনযান মিশন

আরও পড়ুন: চাঁদে পাড়ির পাশাপাশি সৌর সন্ধান, সূর্যের দেশে যাবে ইসরোর ‘আদিত্য এল-১’

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে পৃথিবীর কক্ষপথে তৈরি। শিবন জানিয়েছেন, ভারতের স্পেস স্টেশন তৈরি হবে পৃথিবীর ১২০-১৪০ কিলোমিটার কক্ষপথে (Low Earth Orbit)। ২০ টন ওজনের এই স্পেস স্টেশনে আপাতত তিনজন নভশ্চরের থাকার জায়গা তৈরি হচ্ছে।   গগনযান সফল হলে এই মিশন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে ২০৩০ সালের মধ্যেই। নিজেদের স্পেস স্টেশনে বসেই বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারবেন মহাকাশচারীরা। প্রয়োজনে ১৫-২০ দিন টানা থাকতে পারবেন।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), জাপানের জাক্সা (JAXA), ইউরোপের ইসএ (ESA) এবং কানাডার সিএসএ (CSA)—এই পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মিলিত চেষ্টায় ১৯৯৮-২০১১ সালের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আইএসএস। শিবন জানিয়েছেন, ভারতের ‘দেশি স্পেস স্টেশন’ তৈরির কাজেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে নাসা ও রাশিয়ার রসকসমস।

 

আরও পড়ুন:

চাঁদের পাড়ায় উঁকি, মঙ্গলে চোখ, ‘স্পেস স্টেশন’ বানাতে চলেছে ইসরো, চন্দ্রযানের পর বড় মিশন ভারতের

Comments are closed.