বড় মিশনের পথে ইসরো, উপগ্রহ যোগাযোগে বিপ্লব আনবে জিস্যাট-৩০, উড়বে তিনদিন পরেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন অভিযানের খাতা খুলে ফেলেছে ইসরো। ২০২০ মানেই ঐতিহাসিক সব মিশন। আদিত্য-অভিযান থেকে একগুচ্ছ নতুন স্যাটেলাইট—মহাকাশযাত্রায় ভারত অনন্য নজির গড়তে চলেছে বলে আগেই বলেছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। হাতে আর মাত্র তিনদিন সময়। জিস্যাট সিরিজের সবচেয়ে উন্নত কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট জিস্যাট-৩০ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে ভারত। ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির যৌথ উদ্যোগে এই উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাবে ইসরো।

১৭ জানুয়ারি, শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত ২টো ৩৫ মিনিটে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলবর্তী উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ফ্রেঞ্চ গিনি থেকে আরিয়ানা-৫ লঞ্চ ভেহিকলের (ভিএ-২৫১) পিঠে চাপিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে জিস্যাট-৩০ উপগ্রহকে। ফ্রেঞ্চ গিনি থেকে এর আগে প্রায় ২০টি উপগ্রহ মহকাশে পাঠিয়েছে ইসরো। এই কেন্দ্রটি ১৯৮১ সাল থেকে ব্যবহার করছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র।

৩৩৫৭ কিলোগ্রাম ওজনের জিস্যাট-৩০ উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে বলে জানিয়েছে ইসরো।

আরও পড়ুন: ইসরোর রিস্যাট-২বিআর১ উপগ্রহের উৎক্ষেপণ সফল, পৃথিবীর কক্ষে বসল ভারতের বিশ্বস্ত গুপ্তচর

২০০৬ সালে ভারী কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট ইনস্যাট-৪সির মিশন ব্যর্থ হওয়ার পরে ইনস্যাট-৪এ উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায় ইসরো। তবে এর কার্যকারিতাও সীমিত গণ্ডির মধ্যে বাঁধা। ইসরো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তো বটেই, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, গালফ দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখবে এই জিস্যাট-৩০।

জিস্যাট-৩০

 

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে ভারতের পিএসএলভি ও জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি মার্ক-৩) থাকতে আরিয়ানা-৫ রকেটের প্রয়োজন হচ্ছে কেন! জিএসএলভি ৪ টন অবধি ওজন বহনে সক্ষম, আর জিস্যাট-৩০ স্যাটেলাইটের ওজন তার চেয়ে কম। ইসরো জানিয়েছে, জিস্যাটের মতো ভারী কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাইরে নিয়ে গিয়ে কক্ষপথে বসানোর কাজ সঠিক ভাবে করতে পারবে ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) আরিয়ানা-৫। তাই কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়েই এই মিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইএসএ-কে।

আরও পড়ুন: চাঁদের পর সূর্য, ২০২০ জুড়ে একের পর এক মহাকাশ পাড়ি ইসরোর

জিস্যাট-৩০ উপগ্রহে রয়েছে ‘কমিউনিকেশন ট্র্যান্সপন্ডার’। কৃত্রিম এই উপগ্রহটি অনেক বছর কর্মক্ষম থাকবে। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানিয়েছেন, দেশের দুর্গম প্রান্তেও যোগাযোগ সক্ষম এই উপগ্রহ।

গত বছর ডিসেম্বরে ইসরোর ‘মেঘনাদ’ রিস্যাট-২বিআর১ উপগ্রহকে মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষে বসানো হয়েছে। ৬২৮ কিলোগ্রাম ওজনের সেই উপগ্রহকে মহাকাশে নিয়ে গেছে পিএসএলভি-সি৪৮। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের মায়া কাটিয়ে ৫৭৬ কিলোমিটার কক্ষপথে রিস্যাট-২বিআর১-কে বসিয়ে দিয়েছে ইসরোর রকেট। রিস্যাট-২বিআর১ কৃত্রিম উপগ্রহকে বলা হচ্ছে মহাকাশে ভারতের গোপন চোখ। নির্ভুল ভাবে শত্রুশিবিরের উপর নজরদারি চালাতেই পাঠানো হয়েছে এই নজরদারি উপগ্রহকে। রিস্যাট সিরিজের এই অত্যাধুনিক উপগ্রহের আগে জিস্যাট সিরিজের অনেক উপগ্রহকেই মহাকাশে পাঠিয়েছে ইসরো। এর আগে ভারতীয় নৌ বাহিনীকে সাহয্যের জন্য ২০১৩ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল জিস্যাট-৭ স্যাটেলাইটটিকে। যাকে সেনা বাহিনীতে রুক্মিনী নামেও ডাকা হয়ে থাকে। ভারত মহাসাগরে কড়া নজরদারি চালায় এই উপগ্রহকে, শত্রু জাহাজের গতিবিধি টের পেলেই সেই বার্তা পাঠায় গ্রাউন্ড স্টেশনে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More