মহাকাশে যাচ্ছে এগরোল, ইসরোর গগনযানে খাওয়া হবে পোলাও-মাংস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোগলাই থেকে দক্ষিণী—খাওয়াদাওয়া হবে ভরপুর। গবেষণা চলবে, সমানতালে হবে পেটপুজোও। পৃথিবীর মাটি ছাড়াবার আগেই গগনযানে প্যাকেটভর্তি এগরোল, ইডলি সম্বর, উপমা, পোলাও ভরে দেবেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। পাউচে যাবে জল ও ফ্রুট জুস। বায়ুসেনার যে চার অফিসারকে গগনযানে চাপিয়ে পাঠানো হচ্ছে মহাকাশে, তাঁদের আপ্যায়ণে কোনও ফাঁকই রাখতে চায় না ইসরো।

নতুন বছরে একগুচ্ছ নতুন অভিযানের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবন। চলতি বছরে ইসরোর সবচেয়ে মিশন ‘আদিত্য অভিযান’। সূর্যের দেশে পাড়ি দেবে ইসরোর মহাকাশযান আদিত্য এল-১। তৃতীয় চন্দ্রযাত্রাও এ বছরেই। চন্দ্রযান ২-এর খামতি ঢাকবে চন্দ্রযান ৩। বছরের শেষ থেকে গগনযান নিয়ে হইচই আরও বাড়বে। নভশ্চরদের বাছাইপর্বও শেষ। বায়ুসেনার বিভিন্ন বিভাগ থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে চারজন অফিসারকে।

ইসরো জানিয়েছে, টেকনিক্যাল ব্যাপার সব ঠিক থাকলে এবং নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ পর্ব মিটে গেলে, গগনযান মহাকাশে উড়ে যাবে ২০২২ সালের আগেই। শূন্য মাধ্যাকর্ষণের উপযোগী পোশাক এবং আনুষঙ্গিক উপাদান পাঠানো হবে নভশ্চরদের সঙ্গে। খাবারেও থাকবে বৈচিত্র্য। বিশেষ রকমের ফুড প্যাকেটে প্রায় ৩০ রকমের ডিশ পাঠানো হবে গগনযানে। এই খাবারের দায়িত্বে রয়েছে মাইসোরের ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাবোরেটরি।

মেনুতে কী কী থাকতে পারে তার একটা সম্ভাব্য তালিকা সামনে এনেছে ইসরো। মিশন গগনযানের সেরা আকর্ষণ হতে চলেছে এগরোল। ভেজরোলও থাকবে মেনুতে। নিরামিষাশিদের জন্য থাকবে মুগ ডালের হালুয়া, ইডলি সম্বর, উপমা। নভশ্চরদের মধ্যে যাঁরা ভোজনরসিক, তাঁদের জন্য থাকবে পোলাও-মাংস। পাউচে যাবে জল ও ফলের রস।

শুধু প্যাকেটবন্দি খাবার নয়, খাবার গরম করার মতো যন্ত্রপাতিও পাঠানো হবে সাজিয়ে গুছিয়ে। স্টেনলেস স্টিলের বাসন আর নোংরা ফেলার বিশেষ ডাস্টবিনও যাবে গগনযানে।

আরও পড়ুন: চাঁদের পর সূর্য, ২০২০ জুড়ে একের পর এক মহাকাশ পাড়ি ইসরোর

বছরের শুরুতেই ইসরোর কে চেয়ারম্যান কে শিবন ঘোষণা করেছেন, গগনযানের জন্য যে নভশ্চরদের বাছাই পর্ব চলছিল, সেটা শেষ হয়েছে। ‘ম্যানড-মিশন’-এর জন্য ইসরোর অন্দরে তৈরি হয়েছিল এতটি অ্যাডভাইজরি কমিটি। বায়ুসেনা থেকে বেছে নেওয়া চার নভশ্চরকে ভাল করে শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া হবে। তার জন্য শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ পর্ব। দেশের বিজ্ঞানীরা তো বটেই, এই চার নভশ্চরকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন রাশিয়ার মহাকাশবিজ্ঞানীরা। তার জন্য খুব শীঘ্রই রাশিয়ায় উড়ে যাবেন বায়ুসেনার ওই চার অফিসার।

ভারতের এই ‘Manned Space Mission’-এ পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সাহায্য হোক বা নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ, সার্বিক ভাবে ভারতকে সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কো ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞানের বাঁধাধরা ক্লাস নয়, হাতেকলমে ভারতীয় নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ দিতে তারা প্রস্তুত। রুশ মহাকাশযানে এক বা একাধিক ভারতীয় নভশ্চরকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর ‘রাশিয়ান অরবিট সেগমেন্ট’-এ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে গগনযানে ‘ব্যোমযাত্রা’র চাপ আগে থেকেই সামাল দিতে পারবেন ভারতীয় নভশ্চররা।

গগনযানে ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত নভশ্চরেরা মহাকাশে থাকবেন। তার পরে তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসাররা সফল ভাবে মহাকাশযাত্রা সেরে ফিরে এলে, আগামী অভিযানে সাধারণ মানুষদেরও মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে ইসরো।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More