শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে এগোচ্ছে ‘বিক্রম’, রুদ্ধশ্বাস ১৫ মিনিটের পর কী কী হবে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলেছে! সে চলেছে! এক মুহূর্ত বিশ্রামের অবকাশ নেই। চাঁদ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে বসে মনিটর করছে অরবিটার, সেই সূত্র ধরে কক্ষপথ থেকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছে ল্যান্ডার ‘বিক্রম।’ দূরত্ব কমছে একটু একটু করে। চাঁদের দরজায় কড়া নাড়বে রাত ১টা ৫৫ মিনিটে।

• ইসরো জানিয়েছে, রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে চাঁদে নামার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। রাত দেড়টা থেকে আড়াইটের মধ্যে চাঁদের মাটি ছোঁবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম।’

• অরবিটার তার আগে ল্যান্ডারকে চন্দ্রপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে যাবে, ফের ধাক্কা মেরে তুলে দেবে ১০০ কিলোমিটারে।

• এই ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে পাখির পালকের মতো ভাসতে ভাসতে নেমে আসবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম,’ যাকে মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন ‘সফট ল্যান্ডিং। (Soft Landing)

• আগে ঠিক ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ৭০.৯  ডিগ্রি অক্ষাংশের মানজিনাস-সি ও সিম্পেলিয়াস-এন ক্রেটারের মাঝে অবতরণ করানো হবে ল্যান্ডারকে। ইসরো এখন স্থির করেছে, এত কাছে নয়, দক্ষিণ মেরুর আরও সুদূর প্রান্তে, আরও বেশি অজানা জায়গায় নামানো হবে ল্যান্ডারকে। লুনার সারফেস ম্যাপিং-এ সেই জায়গার অবস্থান ৭০.৯ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা ও ২২.৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে। অর্থাৎ দক্ষিণ মেরুর আরও গহীনে, ৬০০ কিলোমিটার দূরত্বে। (আমেরিকা, রাশিয়া, চিন এই জায়গায় তাদের মহাকাশযান নামাবার দুঃসাহস করেনি)।

• এই সফট ল্যান্ডিং-এর আগের ১৫ মিনিট মনিটরে সতর্ক চোখ রাখবেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। অবতরণের আগে গতিবেগ কমিয়ে আনা হবে সেকেন্ডে ২ মিটার। এর একচুল এ দিক, ও দিক হলে হুড়মুড়িয়ে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে রোভার-সহ বিক্রম।

• সফট ল্যান্ডিং ঠিকঠাক ভাবে করতে হলে ছোট ‘রকেট’ চালাতে হতে পারে ল্যান্ডারকে। ইসরো জানিয়েছে, অবতরণের সময় যদি চাঁদের মাটির ধুলো ওড়ে, তাহলেই বিপদ! সেউ ধূলিকণা যন্ত্রের উপর গিয়ে পড়লে বেতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ‘ডিপ স্পেস নেওয়ার্ক‘ (DSN)-এর মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারবে না রোভার ‘প্রজ্ঞান।’

• এই ধুলো ওড়া বন্ধ করতে কী করণীয়? ল্যান্ডারের চারটি ইঞ্জিন এই সময় বন্ধ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র সেন্ট্রাল ইঞ্জিন কাজ করবে। তাও সতর্ক ভাবে।

• চাঁদের মাটি ছুঁয়েই অরবিটারে বার্তা পাঠাবে ল্যান্ডার। তার পর কিছু অপেক্ষা। ভোর রাত সাড়ে ৪টে নাগাদ রোভার ‘প্রজ্ঞান’ বেরিয়ে আসবে ল্যান্ডারের পেট থেকে।

• রোভারের প্রথম কাজ হবে গ্রাউন্ড স্টেশনে বার্তা পাঠানো। তার পর কাজ শুরু করবে। পৃথিবীর সময় ধরে ভোর হলে রোভার ছবি তুলবে চন্দ্রপৃষ্ঠের। তার পর ধীরে ধীরে খনিজ উপাদানের খোঁজ শুরু হবে।

• ‘রোভারে’ দু’টি যন্ত্র রয়েছে। ‘আলফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার’ নামে যন্ত্রটি অবতরণস্থলের কাছে চন্দ্রপৃষ্ঠে কী কী উপাদান রয়েছে তা দেখবে। ওই যন্ত্রে কিউরিয়াম নামে তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে এক্স-রে ও আলফা পার্টিকল নির্গত হবে এবং তার মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলবে। চাঁদের পাথরের মধ্যে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে কি না, তার সন্ধানও করবে সে।

• দ্বিতীয় যন্ত্রটির নাম ‘লেসার ইনডিউসড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপ’। কাজ অবতরণস্থলের আশপাশে চাঁদের মাটিতে কী উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে তা খুঁজে বার করা, তবে প্রথম যন্ত্রের থেকে আলাদা পদ্ধতিতে।

• কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রোভার নষ্ট হয়ে যাবে। বেঁচে থাকবে অরবিটার। তার মেয়াদকাল এক বছর। তা ছাড়া চাঁদের মাটি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইট ক্রমাগত চাঁদের পিঠের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে।

Comments are closed.