চাঁদের মাটিতে কেমন আছে বিক্রম, আশঙ্কা বাংলার বিজ্ঞানীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

চৈতালী চক্রবর্তী

চাঁদের মাটিতেই আছে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’, এটা নিশ্চিত করেছে ইসরো। বিক্রমের শরীরের ভিতর রোভার ‘প্রজ্ঞান’ রয়েছে এটাও নিশ্চিত। চন্দ্রযানের অরবিটারের থার্মাল ইমেজে ধরা পড়েছে সেই ছবি। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের বুকে বিক্রম ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে সেটা যানা যাবে, অরবিটারের সঙ্গে ল্যান্ডারের রেডিও যোগাযোগ হওয়ার পরেই। তার আগে পর্যন্ত সংশয়ের মেঘ কাটছে না।

সন্দীপ চক্রবর্তী

এই প্রসঙ্গে কলকাতার ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের ডিরেক্টর, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, শুক্রবার পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে শেষ সিগন্যাল ধরা পড়েছিল, বিক্রম যখন চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ২.১ কিলোমিটার দূরে।  আদতে সিগন্যাল আসার কথা ছিল চন্দ্রপৃষ্ঠের এক কিলোমিটার উপর থেকে। অতএব বোঝাই যাচ্ছে বিক্রম সেই অবধি গিয়েছিল, তবে এর পর আর সিগন্যাল পাঠিয়ে উঠতে পারেনি। তাই একপ্রকার ধরে নেওয়াই যায় বিক্রম ‘সফট ল্যান্ড’ করতে পেরেছে বা অটোনমিতে ধীরে ধীরে ল্যান্ড করতে পেরেছে চাঁদের পিঠে। মোদ্দা কথা চাঁদ ছুঁয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম।

নির্ধারিত জায়গায় নামেনি বিক্রম, সেই সম্ভাবনাই প্রবল…

“চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ঠিক যে জায়গায় নামার কথা ছিল, সেখানে ল্যান্ড করেনি বিক্রম। তাহলে ইসরো এতক্ষণে বিক্রমের খোঁজ পেয়ে যেত। সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে নির্দিষ্ট জায়গার পাশে অন্য কোথাও অবতরণ করেছে বিক্রম তাই সেখানকার রেডিও সিগন্যাল এখনও ইসরোর হাতে আসেনি,” বললেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, ইসরো যে থার্মাল ইমেজের কথা বলছে, সেখানে ধরা পড়েছে বিক্রমের অস্তিত্ব।

এখন বুঝতে হবে থার্মাল ইমেজ কী? এটা এমন একটা বস্তু যাতে তাপমাত্রার ফারাক ধরা পড়ে। চাঁদের মাটিতে যে সূক্ষাতিসূক্ষ ধূলিকণা আছে তাকে বলে ‘রেগোলিথ।’  ইসরো জানাচ্ছে, থার্মাল ইমেজে রেগোলিথ বা চাঁদের ধূলিকণার যে তাপমাত্রা ধরা পড়েছে, সেটা ওই নির্দিষ্ট জায়গার তাপমাত্রা নয়, যেখানে ল্যান্ডিং-এর জন্য বিক্রমকে প্রোগাম করা হয়েছিল। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অরবিটার কিছু ধাতব অংশের খোঁজ পেয়েছে যার হাবভাব বিক্রমের মতো এবং তাপমাত্রা আশপাশের ধূলিকণা বা রেগোলিথের থেকে আলাদা।

১২ ডিগ্রির বেশি ঢাল নিয়ে যদি বিক্রম গড়িয়ে পড়ে তাহলে রোভারের দরজা আর খোলা যাবে না

সন্দীপ বাবুর কথায়, দুটো জিনিস হতে পারে। এক, বিক্রম অক্ষত অবস্থায় থেকে সিগন্যাল পাঠানোর ক্ষমতা হারাতে পারে। দুই, বেশি ঢাল নিয়ে গড়িয়ে পড়ার ফলে তার দরজা জ্যাম হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিক্রম অবস্থায় অক্ষত থাকবে, কিন্তু তার দরজা খুলে রোভার প্রজ্ঞান বার হতে পারবে না। ইসরো আপাতত শুধু মাত্র বিক্রমের খোঁজ পাওয়া গেছে বলেছে, তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু জানায়নি।

সূর্যের আলো ল্যান্ডারের উপর পড়লে তার ট্রান্সমিটার কাজ করতে শুরু করবে

আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা যেতে পারে, জানালেন সন্দীপ বাবু। তাঁর কথায়, বিক্রম যদি ভেহেচুরে না গিয়ে থাকে তাহলে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ওই অংশে যখন সূর্যের আলো পড়বে, তখন সৌরশক্তিতে অ্যাকটিভ হবে বিক্রমের সোলার প্যানেল। ফলে ওর ভিতরের ট্রান্সমিটার আবার কাজ করতে শুরু করবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More