শুক্রবার, জুন ২১

লাখে লাখে বিষাক্ত ব্যাঙ ছেয়ে ফেলেছে ফ্লরিডার মিরাবেল্লা, ভয়াবহ পরিণামের আশঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ফ্লরিডার পাম বিচ গার্ডেনের মিরাবেল্লা এলাকা এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। গোটা এলাকা ছেয়ে ফেলেছে লক্ষ লক্ষ প্রচণ্ড বিষাক্ত ব্যাঙ। তারা ইতিমধ্যেই এলাকার সমস্ত সুইমিং পুল, রাস্তা, পার্ক দখল করে নিয়েছে।  মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙেদের এই সুনামি শুরু হয়েছে।

মিরাবেল্লার বাসিন্দা কিউয়াশা, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম চারদিকে ব্যাঙের সমুদ্র। এলাকার প্রত্যেকটি ইঞ্চি ওদের দখলে। আপনি ওদের না মাড়িয়ে এক পা কোনও দিকে এগোতে পারবেন না।”

আরেক বাসিন্দা  ক্যারোলিন রাইস জানিয়েছেন, “আপনি গুণে শেষ করতে পারবেন না, শয়ে নয়, ব্যাঙের বাচ্চাদের লাখে গুনতে হবে। লক্ষ লক্ষ ব্যাঙের ছানা রাস্তাঘাট, পার্ক, বাগান, সুইমিংপুল নোংরা করছে। কোথায় না কোথায় ঢুকে বসে আছে!”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ব্যাঙের প্রজাতিটি মারাত্মক বিষাক্ত এবং ভয়ঙ্কর। তাই সৈকত শহরটির বাসিন্দারা চিন্তিত শিশু আর পালিত পশুপাখিদের নিয়ে। তাদের ঘরে আটকে রাখা মুশকিল। তারা বাইরে খেলা করবেই।

বিষাক্ত উভচরদের থেকে মিরাবেল্লাকে রক্ষা করে  Toad Busters নামে একটি সংস্থা। তারা জানিয়েছে এই প্রজাতির ব্যাঙের হঠাৎ আক্রমণকে তাঁরা মোটেই লঘু ভাবে দেখছেন না। সংস্থাটির মুখ্য টেকনিশিয়ান, মার্ক হলাডে বলেছেন,  “এবারের শীত একটু কম ছিল,  তিন চার সপ্তাহ আগে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ব্যাঙের এই প্রজাতিটি উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে ব্যাপক ভাবে প্রজনন ঘটিয়েছে।” হলাডে জানিয়েছেন, গৃহপালিত পশুপাখি ও শিশুদের জীবনহানি পর্যন্ত ঘটাতে সক্ষম এই বিষাক্ত ব্যাঙগুলি।

ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লরিডা জানিয়েছে Bufo marinus  নামের এই প্রজাতিটি আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও বিষাক্ত ব্যাঙের প্রজাতি। এরা আমেরিকার বাসিন্দা ছিল না। আখ গাছের পক্ষে ক্ষতিকারক white grubs লার্ভা খাওয়ার জন্য তাদের আমেরিকায় আনা হয়েছিল

১৯৫৫ সালে আমদানির সময় মিয়ামি এয়ারপোর্টের বাক্স ভেঙে শতাধিক ব্যাঙ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০ দশকেও একই ঘটনা ঘটে। এই মুহূর্তে যে ব্যাঙ বাহিনী বহাল তবিয়তে ফ্লরিডায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা সম্ভবত এই দুটি দুর্ঘটনায় মুক্ত ব্যাঙবাবাজিদের বংশধর।

Bufo marinus প্রজাতির ব্যাঙরা ভয় পেলে ঘাড়ের কাছে থাকা প্যারোটিড গ্ল্যান্ড থেকে সাদা ঘন দুধের মতো দেখতে বিষাক্ত রস পিচকারির মত ছিটিয়ে দেয়। চোখে পড়লে অন্ধত্ব নিশ্চিত। ত্বকে সেই পড়লে ক্ষত অনিবার্য। এই বিষাক্ত রস বেড়াল কুকুরকে মেরে ফেলতে সক্ষম। এরা প্রচণ্ড আগ্রাসী খাদক এবং বছরভর প্রজননে সক্ষম। এই ব্যাঙরা সব ধরণের খাবার খেতে অভ্যস্ত।

Bufo marinus প্রজাতির পুর্ণবয়স্ক ব্যাঙ

প্রজননের ধরণ দেখে আরও আতঙ্কিত ওয়াকিবহাল মহল। এটাই ব্যাঙদের শেষ আক্রমণ নয়। প্রথম আক্রমণ-এর ২২ দিন পরের আক্রমণ হতে চলেছে। অর্থাৎ পরের ব্যাচের লক্ষ লক্ষ ব্যাঙ জন্ম নিতে চলেছে আর মাত্র কয়েক দিন পর। বিষাক্ত ব্যাঙের দ্বিতীয় সুনামিটি  আছড়ে পড়তে চলেছে সৈকত শহর মিরাবেল্লা সহ ফ্লরিডার অনান্য সৈকত শহরে।

আপাতত শহরবাসীরা সবাই প্রায় গৃহবন্দি। সুইমিংপুলে কেউ নামছেন না। সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি ব্যাঙ ধরতে নেমেছে। কিন্তু শহরবাসীরা আতঙ্কে আছেন। শহর পরিষ্কার হতে না হতেই আবার আছড়ে পড়বে আরও ভয়ানক ব্যাঙ-সুনামি পার্ট-টু

Comments are closed.