উহানে মহামারী করোনাভাইরাস, বাতিল উড়ান, বন্ধ ট্রেন, শহর ছাড়তে পারবেন না কেউ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ছে মৃত্যু। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। সরকারি হিসেবে চিনের মূল ভূখণ্ডে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে নোভেল করোনাভাইরাসের (২০১৯-এনসিওভি) সংক্রমণে। আক্রান্ত ৬০০-র কাছাকাছি। চিন থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ গোটা এশিয়ায় ছড়াতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ইতিমধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে আমেরিকাতেও। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে সমস্ত আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করেছে চিন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চিনের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে বাইরের প্রদেশের যোগাযোগ রক্ষাকারী রেল ও বাস পরিষেবা।

    উহানের সি-ফুড মার্কেট থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রথম আশঙ্কা করা হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর ওই ফউড মার্কেটেই কাজ করা এক ব্যক্তির মধ্যে অজানা সংক্রমণের হদিশ মেলে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সেই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল তাঁর স্ত্রীর মধ্যেও। চিকিৎসকরা বলেছিলেন এই ভাইরাসের সংক্রমণ সার্স ভাইরাসের মতোই, প্রাণঘাতী। তার পর থেকেই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে উহান-সহ চিনের নানা প্রান্তে। মঙ্গলবার অবধি এই ভাইরাস-জনিত রোগে চিনে মৃত্যু হয়েছিল ছ’জনের। বুধবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়। আজ ১৭। তাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াতেও এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, আক্রান্তেরা সম্প্রতি চিনের উহান বা অন্যান্য প্রদেশে গিয়েছিলেন।

    রবিবার আমেরিকার সিয়াটলে এক আক্রান্তকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছে। তিনিও উহান-ফেরত। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সিডিসি জানিয়েছে, সংক্রমণ ঠেকাতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কলকাতায়! সংক্রমণ ঠেকাতে তৈরি বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসের প্রকৃতি, স্বভাব এখনও অনেকটাই আড়ালে রয়েছে। এই সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ড আরএনএ ভাইরাস নানা গোত্রের। এর পাঁচটি জিনোম আলাদা করে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় খুঁজছেন গবেষকরা। নোভেল করোনার  দেখা প্রথম মিলেছিল ২০১৯ সালে। ২০২০-র জানুয়ারির মধ্যেই এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিনের মূল ভূখণ্ডে। এমনকি উহান থেকে যাঁরা বাইরে গেছেন তাঁদের অনেকেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে গেছেন। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পশু-পাখির থেকেই এই ভাইরাস বাসা বেঁধেছে মানুষের শরীরে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, মানুষের থেকে মানুষেও ক্রমশই ছড়াচ্ছে সংক্রমণ।ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের বিশেষজ্ঞ ঝঙ নানশান বলেছেন, ১৪ জন এমন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে যাদের সংক্রমণের কারণ হয় তাঁদের পরিবারের লোকজন, অথবা পেশা বা অন্যকারণে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার ফল। এদের থেকেই বাহিত হয়ে মহামারীর আকার নিচ্ছে নোভেল করোনাভাইরাস।  আর চিনের থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও বিমানপথেও যোগসূত্র রয়েছে অনেক প্রদেশের। পেশার ক্ষেত্রে বহু মানুষের নিত্য যাতায়াতও আছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যতদিন না এই সংক্রমণকে বশে আনা যাবে চিনের কোনও শহর থেকেই বাইরে যেতে পারবেন না অধিবাসীরা। এমনকি বাইরে থেকে উহানে আসার ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More