ইনফ্লুয়েঞ্জা-ফ্লুয়ের জোড়া ফলায় ‘টুইনডেমিক’ আমেরিকা, করোনার তৃতীয় ধাক্কার শঙ্কাও বাড়ছে

মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, অক্টোবরের আগে থেকেই এই ফ্লু-এর প্রকোপ আরও বাড়বে আমেরিকায়। এদিকে শীতের সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কাও রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা চোখ রাঙিয়েই আছে। অতিমহামারীতে বিশ্বে পয়লা নম্বরে আমেরিকা। মারণ ভাইরাসের সঙ্গেই এবার সংক্রামক ফ্লুয়ের আতঙ্কও প্রবল হচ্ছে। শীতের আগে এই ফ্লু বা ভাইরাল ফিভার জাঁকিয়ে বসে মার্কিন মুলুকে। সেই সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জার উৎপাতও বাড়ে। করোনাকালে আরও দুই ভাইরাসজনিত রোগের উপদ্রবে এখন ‘টুইনডেমিক’ পরিস্থিতিতে রয়েছে আমেরিকা।

মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, অক্টোবরের আগে থেকেই এই ফ্লু-এর প্রকোপ আরও বাড়বে আমেরিকায়। এদিকে শীতের সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কাও রয়েছে। আর মার্কিন মুলুকে যেভাবে লকডাউনের তোয়াক্কা না করেই মানুষজনের জমায়েত হচ্ছে তাতে করোনার তৃতীয় ধাক্কার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মার্কিন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজি বলেছেন, অক্টোবর থেকেই ‘ফ্লু সিজন’ শুরু হয়ে যায় আমেরিকায়। আর ফ্লু ও কোভিড সংক্রমণের উপসর্গ প্রায় একই। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসের সমস্যা, পেশীতে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। তাই এই অবস্থায় সতর্কতা বেশি দরকার। ফৌজি বলেছেন, ফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হচ্ছে আমেরিকায়। কারণ শীতের শুরু থেকেই ভাইরাল জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। একই সঙ্গে করোনার প্রকোপও বাড়তে পারে। তাই সবদিক দিয়েই প্রস্তুত থাকতে হবে স্বাস্থ্য দফতরকে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একটি কনফারেন্সে ফৌজি জানান, আগামী দিনে একই সঙ্গে দুই মহামারীর আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে কোনওভাবেই এড়িয়ে গেলে চলবে না।

জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, গত জুলাই মাসে আমেরিকায় করোনা সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণে। প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে ৪০ হাজারের কাছাকাছি। নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি করোনা সংক্রমণের এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে রোগীদের ঠাসাঠাসি ভিড়। নর্ত ডাকোটা, উইসকনসিনে গত ৬ মাস ধরেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, দক্ষিণ ক্যারোলিনা ও উটাহ-তে জুলাই মাস থেকে করোনার সংক্রমণ ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। মনে করা হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হয়ে গেছে।

সিডিসি-র ডিরেক্টর রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, কোভিড-১৯ ও মরসুমি ভাইরাল জ্বর এই দুইয়ের প্রকোপই ফের মহামারীর চেহারা নিতে পারে আমেরিকায়। সিজনাল ফ্লু-এর প্রকোপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। অক্টোবরে এই সংখ্যা এক ধাক্কায় কয়েক হাজার বেড়ে যাবে। দুই মহামারীর ফলায় নাজেহাল হবে আমেরিকা। রবার্ট বলেছেন, ফ্লু ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাও দেওয়া হচ্ছে। এই টিকায় করোনা রোখা সম্ভব নয়, তবে ভাইরাস সংক্রমণে জটিল রোগের হাত থেকে রেহাই মিলতে পারে।

সিডিসি জানিয়েছে, আমেরিকার কয়েকটি রাজ্যে করোনার তৃতীয় ধাক্কার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি খুলে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না অনেক জায়গাতেই। কলোরাডোর বোল্ডার কাউন্টির তরফে জানানো হয়েছে, ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত। অন্যদিকে, শিশুদের মধ্যেও ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে।  ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স’ সংস্থার তথ্য বলছে, গত এক মাসে আমেরিকায় প্রায় চার লক্ষ শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান সিয়ান ও’ল্যারি জানিয়েছেন, এই সংখ্যাটি যথেষ্ট উদ্বেগের। তিন মাসে ৯০টি শিশু করোনায় মারা গেছে। শতাংশের হিসেবে এই সংখ্যা হয়তো খুব কম, তবে বিপদ মোটেও কম নয়। ল্যারি জানিয়েছেন, আমেরিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী সে দেশের শিশুদের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক অসুখ ইনফ্লুয়েঞ্জা। এই অসুখের প্রভাবে প্রতি বছর গড়ে ১০০ শিশুর মৃত্যু হয় আমেরিকায়। সেখানে করোনার জেরে মাত্র তিনমাসে ৯০টি শিশুর মৃত্যু রীতিমতো দুশ্চিন্তার। গত কয়েক মাসে আমেরিকায় করোনার পরীক্ষা অনেকটা পরিমাণে বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সংক্রমিতের সংখ্যাও অনেকটা বেশি। তাদের মধ্যেই পড়ছে শিশুরা। সংক্রমণ যত বেশি ছড়াবে, স্বাভাবিকভাবেই তত বেশি শিশু করোনায় সংক্রমিত হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত গুরুতর উপসর্গ দেখা গিয়েছে খুবই কম শিশুর মধ্যে, হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ আক্রান্ত শিশুকে। কিন্তু যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More