বাগদাদির অন্তর্বাস চুরি করেছিলেন কুর্দের গোয়েন্দারা, রাতের আঁধারে আইএস ডেরায় চলেছিল অভিযান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের আঁধার। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিবের বারিশা চত্বর নিশ্চিদ্র ঘুমে আচ্ছন্ন। জনবিরল প্রান্তরে কয়েকটা বাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তার মাঝেই একটা বড়সড় কম্পাউন্ড। পাকা খবর আছে এখানেই সপরিবারে লুকিয়ে রয়েছে আইএস প্রধান বিশ্বের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি নেতা আবু বকর আল বাগদাদি। কম্পাউন্ড ঘিরে সতর্ক প্রহরা। আইএসের মতোই পোশাক পরে কম্পাউন্ডের দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকলেন কুর্দের গোয়েন্দা বিভাগের এক দক্ষ অফিসার। সতর্ক, ধীর তাঁর গতি। আইএস প্রধানের ঘরে ঢুকে তার অন্তর্বাস চুরি করে নিরাপদে বেরিয়ে এলেন কম্পাউন্ড থেকে। কাকপক্ষীও টের পেল না।

    আইএস প্রধানকে হত্যার ছক কষার অনেক আগে থেকেই ঘুঁটি সাজাচ্ছিল সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দ বাহিনী। বারিশা চত্বরে বাগদাদির সম্ভাব্য আস্তানার খোঁজ মেলার পর থেকেই তার প্রতিটা গতিবিধির উপর সতর্ক নজর ছিল সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের। সোমবার কুর্দ বাহিনীর অফিসার পোলাট ক্যান সবিস্তারে জানান, কীভাবে আইএস প্রধানের খোঁজ মিলেছিল এবং কীভাবে তার বাড়িতে ঢুকে অন্তর্বাস চুরি করে এনেছিলেন কুর্দের গোয়েন্দা বিভাগের দক্ষ অফিসাররা। এই অন্তর্বাস ফরেন্সিক ল্যাবে পরীক্ষা করে ডিএনএ টেস্টের কাজে লাগানো হয়। বাগদাদি নিকেশ হওয়ার পরে এই ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখেই মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে সত্যি সত্যিই খতম হয়েছে ওই কুখ্যাত জঙ্গি নেতা।

    আরও পড়ুন: সলিল সমাধি আল-বাগদাদির, লাদেনের মতোই সমুদ্রের জলে দেহ ফেলল মার্কিন সেনা

    পোলাট জানিয়েছেন, এই অপারেশনের পাঁচ-ছ’মাস আগে থেকেই বাগদাদির খোঁজ শুরু হয়। প্রথম খবরটা আসে ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দ বাহিনীর কাছ থেকেই। মার্কিন গোয়েন্দারা খবর পান বাগদাদিকে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিবে পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জানা যায়, বারিশা এলাকায় নতুন ঘাঁটি তৈরি করে সপরিবারে লুকিয়ে রয়েছে বাগদাদি। তার সঙ্গে রয়েছে এক দল আইএস জঙ্গিও। খবর যায় হোয়াইট হাইসে। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত মেলার পরই সেনা অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে মার্কিন প্রশাসন।

    আরও পড়ুন: অপারেশন বাগদাদি: বাচ্চাদের কান্না, কুকুরের চিৎকার, তারপরেই বিস্ফোরণ, উড়ে গেলেন আইএস প্রধান
    বারিশা চত্বরে বাগদাদির ডেরা

    আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন জানান, বাগদাদির খোঁজ সবিস্তারে আনতে কুর্দ বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলায় গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। রবিবার ভোর রাতে পশ্চিম ইরাকের আল আসাদ বিমানবন্দর থেকে আটটি মার্কিন সিএইচ-৪৭ কপ্টার নিয়ে ডেল্টা ফোর্স-সহ এলিট বাহিনী। উত্তর ইরাক থেকে উড়ে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়েছে সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের বারিশার দিকে। আইএসের গোলাগুলির বাধা পেরিয়ে বাগদাদির ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে। খতম হয় প্রহরারত প্রায় সব আইএস জঙ্গিই। শেষে বাগদাদির দুই স্ত্রীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে কম্পাউন্ডেরই একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গে ঢুকে নিজেকে উড়িয়ে দেয় বাগদাদি। মার্কিন সেনা জানিয়েছে, বাগদাদির ডেরা থেকে দু’জন জঙ্গিকে জীবিত ধরা হয়েছে আর ১১টি শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন: জঙ্গি নয়, বাগদাদি নাকি ইসলামী পণ্ডিত! চরম ট্রোল, শিরোনাম বদলাতে বাধ্য হল ওয়াশিংটন পোস্ট

    আরও পড়ুন:

    কে এই ‘আবু বকর আল-বাগদাদি’! যাঁর মাথার দাম ছিল আড়াই কোটি মার্কিন ডলার

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More