প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব, একশোরও বেশি উড়ান বাতিল হংকং বিমানবন্দরে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তি ফেরার পরিস্থিতি নেই। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে নাগাড়ে। রক্তাক্ত হয়েছে হংকংয়ের রাস্তা। রেল স্টেশন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর সব জায়গায় প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার সকাল থেকে হংকং বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে হাজার পাঁচেক বিক্ষোভকারীর ভিড়। অশান্তি এড়াতে একশোর বেশি উড়ান বাতিল করে দিয়েছেন পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলির একটি, হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

    হংকং বিমানবন্দরের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের জমায়েতের জন্য বিমানবন্দরের পরিষেবা বিপর্যস্ত। শেষ যে বিমানগুলি অবতরণ করেছে সেগুলির যাত্রীদের নিরাপদে বার করে দেওয়া হয়েছে। বাকি সমস্ত উড়ান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ না ওঠা পর্যন্ত বিমানের অবতরণও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    সোমবার হংকং বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত

    বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলের বিরোধিতা করে জুন মাসে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ নেমেছিলেন হংকংয়ের রাস্তায়। প্রবল চাপে সেই বিল আনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন স্বশাসিত এই অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি লাম। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফের রাস্তায় নামেন হাজার হাজার হংকংবাসী। দাঙ্গা রুখতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় বিক্ষোভকারীদের। রবিবার রাতে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। পুলিশ জানায়, প্রতিবাদী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের ৮০০ গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে তাদের।

    হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী নেতাদের বক্তব্য,  বিক্ষোভ থামাতে যথেচ্ছ ভাবে পেপার স্প্রে, লাঠি, বর্মের প্রয়োগ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট ছোড়া হয়। তাতে আহত হন বহু মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, মেট্রো স্টেশনে, রাস্তায় যখন বিক্ষোভকারীদের বেধড়ক মারা হচ্ছিল, তখনই পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়ে ফোন যায়। কিন্তু ঘটনার অন্তত এক ঘণ্টা পরে সেখানে এসে হাজির হয় পুলিশ বাহিনী। তত ক্ষণে রক্তে ভেসে গেছে ইউয়েন লংয়ের রাস্তা।  পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ করতেই বিমানবন্দরে এই জমায়েত। বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডেও লেখা ছিল, ‘হংকং আর সুরক্ষিত নেই। পুলিশের লজ্জা হওয়া উচিত।’

    বিমানবন্দরেই প্ল্যাকার্ড হাতে বসেছিলেন ২৯ বছরের নার্স নোয়েল সে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। রবিবার রাতে পুলিশ যে বর্বরোচিত আচরণ করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য।’’ তাঁর কথায়, এই গণ-প্রতিবাদ আর রাজনৈতিক স্তরে নেই। এখন এটা ঠিক আর ভুলের লড়াই।

    বহু বছর ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল হংকং। ২২ বছর আগে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয় চিনের কাছে। তার পর থেকে স্বশাসিত এই অঞ্চলের মূল কর্তৃত্ব বেজিংয়ের হাতে। মাসখানেক আগে চিনের অনুগত ক্যারি ল্যাম প্রত্যর্পণ বিল আনার প্রস্তাব দেন পার্লামেন্টে। যা আইন হলে বিচারের প্রয়োজনে কোনও অপরাধীকে হংকং থেকে চিনে প্রত্যর্পণ করতে আর বাধা থাকবে না। এর পরেই ল্যামের ইস্তফা চেয়ে রাস্তায় নামেন মানুষজন। প্রবল প্রতিবাদে আপাতত সেই বিল আনা স্থগিত রেখেছেন ল্যাম।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More