বুধবার, মার্চ ২০

যৌথ বিবৃতিতে পুলওয়ামা কাণ্ডকে কঠোর নিন্দা সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সন্ধ্যাতেও হায়দরাবাদ হাউজ থেকে এই খবরই পাওয়া যাচ্ছিল যে সন্ত্রাসবাদের কঠোর সমালোচনা করলেও পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান। কিন্তু প্রবল কূটনৈতিক দৌত্যে শেষ পর্যন্ত রিয়াধকে এ ব্যাপারে পাশে পেতে সফল হল নয়াদিল্লি (পড়ুন নরেন্দ্র মোদী)। 

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর রাতে দুই তরফ থেকে যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হল, তাতে দ্ব্যর্থহীন ভাবে লেখা হল, “গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর যে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে তাকে কঠোরতম ভাবে নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদী) এবং হিজ রয়্যাল হাইনেস (যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান)।”

প্রসঙ্গত, পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার তিন দিন পরেই সৌদি যুবরাজ গিয়েছিলেন পাকিস্তান সফরে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামাবাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তার পর ইসলামাবাদ থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লি এসে পৌঁছন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান খোদ প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে আলিঙ্গন করেন মোদী।

কিন্তু এর পরই সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়। কংগ্রেস থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে মোদী বিরোধীরা বলতে শুরু করেন, পাকিস্তানকে কুড়ি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য আশ্বাস দিয়ে এলেন যে যুবরাজ, যিনি ইসলামাবাদে দাঁড়িয়ে বললেন, তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়, তাঁকে কীভাবে লোক দেখিয়ে আলিঙ্গনে আবদ্ধ হলেন প্রধানমন্ত্রী। কেন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রোটোকল ভেঙে চলে গেলেন বিমানবন্দরে। এতে কি শহিদদের অপমান করা হল না।

সামগ্রিক এই পরিবেশে যখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয় তখন আবহাওয়া বন্ধুত্বপূর্ণই ছিল। কিন্তু সচিব স্তরে আলোচনায় রিয়াধ যখন জানিয়ে দেয় পুলওয়ামার ঘটনার প্রসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে রাখা যাবে না, তখন কিছুটা চাপেই পড়ে যায় নয়াদিল্লি। সাউথ ব্লকের ঠাওর করতে অসুবিধা হয়নি যে, শেষ পর্যন্ত তা হলে ঘরোয়া রাজনীতিতে চাপে পড়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এই অবস্থায় পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সবিস্তার প্রেজেন্টেশন দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সচিব স্তরে প্রবল দৌত্য শুরু করে দেওয়া হয় রিয়াধের সঙ্গে। অবশেষে পুলওয়ামার ঘটনার নিন্দা প্রস্তাব যৌথ বিবৃতিতে রাখতে রাজি হয় সৌদি আরব। সেই সঙ্গে এও লেখা হল, কোনও রাষ্ট্র যেন অন্য কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে ব্যবহার না করে, সন্ত্রাসবাদে আর্থিক বা অন্য কোনওরকম মদত না দেয়। বরং সে দেশে জঙ্গি শিবির বা সে ধরনের পরিকাঠামো থাকলে যেন তা ভেঙে দেয়। এ কথা যে পাকিস্তানের উদ্দেশেই বার্তা তা নিয়ে সংশয় নেই। তা ছাড়া সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও জঙ্গি সংগঠনের মাস্টারমাইন্ডদের তালিকাভুক্ত করতে রাষ্ট্রপুঞ্জে সমষ্টিগত পদক্ষেপের পক্ষেও মত প্রকাশ করা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

এই বিবৃতিতে সৌদি যুবরাজ বলেছেন, ২০১৪ সালের মে মাস থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানের সঙ্গে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করার ধারাবাহিক চেষ্টা করেছেন। শুধুমাত্র সরকারি ক্ষেত্রে নয়, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করেছেন মোদী।

স্বাভাবিক ভাবেই সৌদি যুবরাজের সঙ্গে এই যৌথ বিবৃতি প্রকাশকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসাবেই দেখছে মোদী সরকার। তবে পুলওয়ামার ঘটনাকে নিন্দা করলেও যৌথ বিবৃতিতে এও লেখা হয় যে সন্ত্রাসবাদকে কোনও ভাবেই কোনও একটি জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে দেখানোর প্রবণতা ঠিক নয়। সন্ত্রাসবাদ আদতে দেশ ও সমাজের পক্ষে বিপজ্জনক। কোনও একটি জাতি বা ধর্মের সঙ্গে তাকে জুড়ে দেখানোর জন্য ইদানীং যে বিশ্বজনীন প্রবণতা শুরু হয়েছে তা সবরকম ভাবে খারিজ করা হচ্ছে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.