কুড়ি সালের শেষেই ৪ কোটি টিকার ডোজ আনতে পারি, দাবি ফাইজারের

ফাইজারের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, ভ্যাকসিন রেগুলেটরির কমিটির অনুমোদন পেয়ে গেলে কুড়ি সালের শেষেই অন্তত চার কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়ে আসতে পারবে ফাইজার। বিপুল পরিমাণ টিকার ডোজ উৎপাদনের পরিকাঠামো তাদের রয়েছে।

৬৪৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় কোভিড ভ্যাকসিনের দৌড়ে জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে দুই মার্কিন ফার্মা জায়ান্টের—মোডার্না বায়োটেক এবং ফাইজার। দুই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। দুই সংস্থার ভ্যাকসিনই তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালে রয়েছে। ফাইজারের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, ভ্যাকসিন রেগুলেটরির কমিটির অনুমোদন পেয়ে গেলে কুড়ি সালের শেষেই অন্তত চার কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়ে আসতে পারবে ফাইজার। বিপুল পরিমাণ টিকার ডোজ উৎপাদনের পরিকাঠামো তাদের রয়েছে। এই টিকাও মানুষের শরীরে কার্যকরী হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

মোডার্না বায়োটেকের ভ্যাকসিন গবেষণার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তথা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের প্রধান অ্যান্থনি ফৌজি। স্বভাবতই সরকারি সহযোগিতায় মোডার্না এখন ফাইজারের থেকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে। ফাইজারের সিইও বোরলার দাবি, তাদের তৈরি টিকা তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালে ইতিবাচক ফল দেখালেও এখনও সরকারি কমিটির ছাড়পত্র পায়নি। অথচ এই টিকা ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের শরীরেও কার্যকরী হচ্ছে। তাই এখন শুধু রেগুলেটরি কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষা। ছাড়পত্র পেয়ে গেলেই, চার কোটি টিকার ডোজ চলে আসবে বছর শেষের আগেই। আগামী বছর মার্চের মধ্যে আরও ১০ কোটি টিকার ডোজ তৈরি করে ফেলবে ফাইজার।

কী ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার?

জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার। এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। এই আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162। মানুষের শরীরে ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে যা থেকে দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা  অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স  তৈরি করবে এই ভ্যাকসিন। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

বোরলার দাবি, তৃতীয় পর্বে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস দেখা যায়নি। আরও বেশি জনের উপরে এখন টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। বোরলা আগেই দাবি করেছিলেন, অক্টোবরের মধ্যেই টিকার সেফটি ট্রায়ালের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করা হবে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রেগুলেটরি কমিটির কাছে। প্রয়োজন হলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে টিকার প্রয়োগের জন্য অনুমতিও চাওয়া হবে।


ফাইজারের টিকা তৈরি হতে পারে ভারতেও?

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার ফর্মুলায় ভারতে কোভিশিল্ড টিকা তৈরি করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করছে হায়দরাবাদের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরি। মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজারের টিকাও ভারতে তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফাইজারের আরএনএ ভ্যাকসিন মার্কিন রেগুলেটরি কমিটির অনুমোদন পেলে ভারতেও উৎপাদন ও বিতরণ হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। ভারতে ফাইজারের শাখা সংস্থা ফাইজার ইন্ডিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্তাদের জরুরি আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে এখনও এই বিষয়ে সরকারি তরফে কিছু জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবেই কথাবার্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More