বিপদের দিনে ‘বন্ধু’ চিনের পাশে পাকিস্তান, মহামারী রুখতে উহান যাচ্ছে পাকিস্তানি ডাক্তার-নার্সরা

চিনের পাশে আছি। বার্তা পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশির।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উহানে তৈরি হবে অস্থায়ী হাসপাতালে। চিকিৎসার দায়িত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ ডাক্তার-নার্সরা। ওষুধপত্র যা লাগবে পাঠাবে বন্ধু দেশ। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াইকে ফোন করে এমনটাই বলেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি।

মহামারী রুখতে চিনের হাত শক্ত করে ধরতে চায় পাকিস্তান। সে দেশের বিদেশমন্ত্রীর কথায়, “উহানে পাকিস্তানি পড়ুয়াদের আগলে রেখেছে চিন। এমন বিপদের দিনেও ভিন দেশের নাগরিকদের প্রতি তারা যত্নবান। আমরা চিনের পাশে আছি। ডাক্তার, নার্স, ওষুধপত্র যা লাগে সব পাঠানো হবে পাকিস্তান থেকে।”

নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চিনে মহামারীর চেহারা নিয়েছে। উহান যেন মৃত্যুপুরী। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০। আক্রান্ত প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি। রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। সংক্রমণের আশঙ্কায় ঘরবন্দি হাজার হাজার মানুষ। চিন থেকে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) গ্লোবাল হেলথ এমার্জেন্সি জারি করেছে।

চিনে আটকে রয়েছে ভারত-সহ ভিন দেশের পড়ুয়ারাও। পাকিস্তান থেকে উহানে গবেষণা করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন অনেক পড়ুয়াই। বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াই বলেছেন, “পাকিস্তানি পড়ুয়ারা আমাদের নিজের সন্তানের মতো। তাদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষার সব দায়িত্ব আমাদের।” পাকিস্তানি পড়ুয়াদের নিরাপদে দেশে ফেরাবার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

চিনের উহান-সহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দু’কোটি মানুষকে শহর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে সরকারি তরফে। হুবেই প্রদেশের উহান-সহ আরও মোট ১৩টি শহরের প্রবেশদ্বার কার্যত তালাবন্ধ করে দিয়েছে চিন প্রশাসন। সরকারের নির্দেশ, বাইরের কেউ ভিতরে ঢুকবে না, শহরের ভিতরে থাকা কেউ বেরোবে না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে আসা হয়েছে সংক্রামিত এলাকাগুলিতে। জায়গায় জায়গায় ক্যাম্প করে কাজে লেগে পড়েছেন সেনা-ডাক্তাররা। পরিস্থিতির মোকাবিলায় পিপল লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৪৫০ জন সেনা-ডাক্তারকে আপদকালীন অবস্থার জন্য নিয়োগ করেছে উহানের স্বাস্থ্য দফতর।

চিনের পর ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে জাপান, হংকং, ম্যাকাউ, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তাইল্যান্ড, আমেরিকা, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডেও সংক্রমণের খবর মিলেছে। ভারতে চিন-ফেরত কেরলের এক ছাত্র করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত। আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির জন্য সচেষ্ট বিশ্বের নানা দেশ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হংকং ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের গবেষক ইউয়েন কোক-ইয়াং দাবি করেছেন, করোনার সংক্রমণ অনেকটাই সার্সের (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) মতো। এই সংক্রমণকে রোখার টিকা তৈরি করা হয়েছে। যদিও মানুষের উপর তার প্রয়োগ হতে কিছু দেরি আছে। হংকং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের বানানো টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনাভাইরাসের প্রভাব নির্মূল করবে বলেই দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ল্যাবোরেটরিতে নোভেল করোনাভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে তার প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালের ডাক্তার, পিটার ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরাস আইডেন্টিফিকেশন ল্যাবোরেটরির প্রধান ড. জুলিয়ান ড্রুস এবং ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মাইক ক্যাটন। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের দাবি, ভাইরাসের এই প্রতিলিপি থেকেই বোঝা গেছে একে রোখার জন্য কী ধরনের অ্যান্টিবডি দরকার। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার বড় চমক আনতে চলেছে বলেই দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই প্রতিষেধক তৈরি হলে প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ নির্মূল হবে পৃথিবী থেকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More