বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

নুসরাত হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সহ ১৬ জনকে ফাঁসির সাজা দিল ঢাকা আদালত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল দেশ। অধ্যক্ষের কুপ্রস্তাবের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠায় ১৯ বছরের নুসরাতকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সহ মোট ২১ জনকে। আজ বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায়ে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজদৌল্লা-সহ ১৬ জনকে ফাঁসির সাজা শোনালেন ঢাকা আদালতের বিচারক।

রায়দানকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল বাংলাদেশের ফেনি ও সোনাগাজির সদর উপজেলা। এ দিন সকাল থেকেই আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় র‍্যাফ। রাস্তার মোড়ে বসানো হয় পুলিশ পিকেট। নুসরাতের বাড়িতেও পুলিশি প্রহরা বসানো হয়।

সরকারপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বলেছেন, “আজকের রায় ঐতিহাসিক। বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিয়েছে এই ধরনের অপরাধের কোনও ক্ষমা হয় না। অপরাধীরা তাদের যোগ্য শাস্তি পেয়েছে।”

বাংলাদেশের ফেনির সোনাগাজিতে মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসারই অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লা ও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন তিনি। ছাত্রী দাবি করেছিলেন, অধ্যক্ষ দিনের পর দিন তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই গ্রেফতারির পরেই মাদ্রাসায় অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে। গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় নুসরাতকে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। হাত–পা বেঁধে, তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৮০% পোড়া নিয়ে, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সে সময় মেলেনি। ঘটনার পাঁচ দিন পরেই মৃত্যু হয় তাঁর।

এই হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দেয় দেশকে। বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ, আন্দোলন। পথে নেমে প্রতিবাদে সামিল হন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্টরা। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বাসভবন পর্যন্ত মানব মিছিলও করা হয়।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর আগে জবানবন্দি দিয়ে সব জানিয়ে গিয়েছিলেন নুসরত। অধ্যক্ষকেই দায়ী করেছিলেন তিনি।  তদন্তে নেমে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামি লিগের সভাপতি রুহুল আমীন এবং আওয়ামি লিগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম। গত ২৮ মে ধৃতদের মধ্যে ১৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে ফেনির আদালত। মে মাসের শেষে এই মামলা স্থানান্তরিত করা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

উপেন্দ্রনাথ ও তৎকালীন কালীঘাট ইতিবৃত্ত

Comments are closed.