টিকার পরীক্ষায় এমন হতেই পারে, হতাশার কিছু নেই, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে আশ্বাস দিল হু

টিকার ডোজে এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে কিছু জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল করছিল এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা। অ্যাস্ট্রজেনেকার বিজ্ঞানীরা জানান, টিকার ডোজ দেওয়ার পরেই কোনও অজানা অসুখ দেখা দিয়েছে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে।

২৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্রামক রোগের টিকার পরীক্ষায় এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে গেলে অনেক সময়েই তার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই সমস্যার দ্রুত সমাধানও করে ফেলেন ভাইরোলজিস্টরা। তাই অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়াল বন্ধ হয়ে গেছে মানে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যা কাটিয়ে উঠে ফের ট্রায়াল শুরু হবে, আশ্বাস দিয়ে বললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন।

টিকার ডোজে এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে কিছু জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল করছিল এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা। অ্যাস্ট্রজেনেকার বিজ্ঞানীরা জানান, টিকার ডোজ দেওয়ার পরেই কোনও অজানা অসুখ দেখা দিয়েছে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে। তাই সুরক্ষার জন্য টিকার ট্রায়াল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেনি অ্যাস্ট্রজেনেকা।

ভারতে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় কোভিশিল্ড টিকা তৈরি করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। তাই অ্যাস্ট্রজেনেকার ট্রায়ল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। দেশের ড্রাগ কন্ট্রোলের নির্দেশিকা মেনে তড়িঘড়ি টিকার পরীক্ষামূলক ট্রায়াল বন্ধ করে দিয়েছে সেরাম। বিশ্বের যত রকমের কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে তাদের মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকায় বেশি ভরসা পেয়েছে বিশ্ববাসী। তাই হঠাৎ করেই টিকার ট্রায়াল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে নানা মহলেই।

হু-র শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা বলেছেন, টিকার গবেষণা ও প্রয়োগে নানা উত্থান পতন থাকে। খুব সহজেই কোনও দুরারোগ্য রোগের টিকা চলে এসেছে এমন নজির নেই। সৌম্যার বক্তব্য, শুরুতেই খামতিগুলো নজরে চলে আসাই বরং ভাল। তাহলে কী কী গলদ হচ্ছে তার মেরামতি করে আগামী দিনে টিকার সুরক্ষা নিয়ে একেবারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

“অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়াল বন্ধ হওয়া কোনও খারাপ ইঙ্গিত নয়। বরং নতুন করে শুরু করার সময় এসেছে। এই ধাক্কাতে আখেরে লাভই হবে। আগামী দিনে বিশ্ববাসীর কাছে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও কার্যকরী টিকা পৌঁছে দেওয়া যাবে,” বলেছেন সৌম্যা স্বামীনাথন।

জরুরি ভিত্তিতে তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালের আগেই টিকা নিয়ে আসা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন সৌম্যা। তাঁর ইঙ্গিত ছিল আমেরিকার কোভিড ভ্যাকসিনের দিকে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (এফডিএ) ঘোষণা করেছিল, করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার ইঞ্জেকশন দিতে পারে আমেরিকাও। মার্কিন সরকারেরও সায় আছে এই প্রস্তাবে। এফডিএ-র ঘোষণার পরেই সৌম্যা বলেছিলেন, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের আগেই যদি টিকা দেওয়া শুরু হয়ে যায়, তাহলে তার ‘অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস’ হতে পারে মানুষের শরীরে। টিকা কতটা নিরাপদ ও কার্যকরী সেটা জানার জন্য ল্যাবরেটরিতে সেফটি ট্রায়ালের পরে তিন স্তরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ করতে হয়। এই তিন স্তরের প্রথম থেকে শেষ অবধি ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ও টিকার ডোজও বাড়ানো হয়। সে দিক থেকে তিনি অক্সফোর্ডের টিকাকে এগিয়ে রেখেছিলেন। কারণ অক্সফোর্ড শুরু থেকেই নিয়ম মেনে টিকার তিন স্তরের ট্রায়াল করছে। ব্রিটেন ছাড়াও ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশেও এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। সৌম্যা বলেছেন, আগামী দিনে এই টিকাতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।

অক্সফোর্ডের ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন তথা ChAdOx1 nCoV-19  ভ্যাকসিন গবেষণার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে তাদের সহযোগী সংস্থা অ্যাস্ট্রজেনেকা। শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়া কম সংক্রামক অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তৈরি এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট শরীরে গিয়ে বি-কোষ (B-Cell) ও টি-কোষকে (T-Cell) উদ্দীপিত করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করছে বলেই জানিয়েছে অক্সফোর্ডেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। এই গবেষণা ও ট্রায়ালে অক্সফোর্ডের সঙ্গেই রয়েছেন জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালের শেষের দিকেই ছিল অ্যাস্ট্রজেনেকা। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের গোড়াতেই করোনার টিকা নিয়ে আসার কথা ছিল তাদের। তবে এই গলদের কারণে টিকা আনার সময় কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More