‘মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং’ মস্তিষ্কের গতি কমায়, দুর্বল হয় স্মৃতিশক্তি, দাবি গবেষকদের

সাম্প্রতিক গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য নেচার’ সায়েন্স জার্নালে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ডক্টর অ্যান্থনি ওয়াগনার বলেছেন, মাল্টিটাস্কারদের নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাঁদের স্মৃতিশক্তি ও আইকিউ বাকিদের থেকে আলাদা।

২৪৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেকে মিডিয়া মাল্টিটাস্কার বলতে ভালবাসেন? ডিজিটাল মিডিয়ার যে কোনও প্ল্যাটফর্মেই আপনার দুরন্ত গতি ? তাহলে সামলে যাওয়ার সময় এসেছে।

একহাতে হোয়াটসঅ্যাপ, অন্যহাতে ইমেল, চোখ ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে, কানে গোঁজা হেডফোনে তারস্বরে বাজছে গান। এতগুলো কাজ একসঙ্গে করে নিজের পিঠ চাপড়ে দিতে বেশ মজাই লাগে, কিন্তু ব্যাঘাতটা ঘটে মস্তিষ্কে। মানুষের মস্তিষ্কও তো আসলে যন্ত্রের মতোই। তার কলকব্জা হল স্নায়ু বা নার্ভ। এতরকম কাজ যদি একসঙ্গে স্নায়ুর মতো জট পাকিয়ে যায়, তাহলে জড়াজড়ি করেই তাদের ইতি হয়। অর্থাৎ মস্তিষ্কে বিপদঘণ্টি বেজে যায়। স্নায়ুর মধ্যে এতরকম সঙ্কেতের জঞ্জাল জমে স্মৃতিশক্তিটাই নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে জটিল মস্তিষ্কের রোগ হানা দেয় সহজেই। মাল্টিটাস্কিংয়ের এই গোড়ায় গলদটাই বারে বারে বোঝাতে চেয়েছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

সেই ২০০৯ সাল থেকে স্ট্যানফোর্ড মেমরি ল্যাবে মস্তিষ্কের গতি-প্রকৃতি নিয়ে নানারকম গবেষণা চলছে। কীভাবে মস্তিষ্কের গতি বাড়বে, আইকিউ বাড়বে কীভাবে, কোন মানুষের স্মৃতির পর্দা কতটা চওড়া, কার মস্তিষ্কে অনুভূতিগুলো ঠিকমতো ডানা মেলতে পারে না, ইত্যাদি নানা রকম খোঁজ করতে গিয়েই মিডিয়া মাল্টিটাস্কিংয়ের ভয়ঙ্কর দিকটা নজরে পড়ে বিজ্ঞানী, মনোবিদদের। দফায় দফায় পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা বুঝিয়ে দিতে চান যে চোখ, কান, মস্তিষ্কেরও আরাম দরকার। নানা কাজের বোঝা চাপালে তারা বিগড়ে যাবেই।

সাম্প্রতিক গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য নেচার’ সায়েন্স জার্নালে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ডক্টর অ্যান্থনি ওয়াগনার বলেছেন, মাল্টিটাস্কারদের নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাঁদের স্মৃতিশক্তি ও আইকিউ বাকিদের থেকে আলাদা। যাঁরা দিবারাত্র ডিজিটাল মিডিয়ায় ডুবে থাকেন, নানারকম কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা করেন, তাঁদের মস্তিষ্কের গতি কম। স্নায়ুর রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।

 

স্মৃতিশক্তি দুর্বল মাল্টিটাস্কারদের, মস্তিষ্কের গতিও কম

ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নানা দিকে একসঙ্গে কাজ করাকে বলে মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং। ধরা যাক, কেউ টিভি দেখছে, একই সঙ্গে মেসেজ করছে, আবার সেই সঙ্গেই ফোনে গান শুনছে। মাঝে মাঝে মোবাইলে ইমেল বা ফেসবুক অথবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে যাচ্ছে। যদি সবকিছুই একই সময়ে এবং একই সঙ্গে করা হয়, তাহলে তাকে মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং বলে। গবেষকরা বলছেন, এই মাল্টিটাস্কাররা নানা প্রকৃতির হয়। কেউ খুব দ্রুত মাল্টিটাস্কিং করতে পারে, আবার কেউ একটু ধীরস্থির। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটে।

Participants were briefly presented with images of objects on a computer screen. After a delay period of ten minutes, they were presented with a second round of images and had to identify whether they were bigger or smaller, more pleasant or unpleasant, or if they had seen the image before or not compared to the previous set. The technique was detailed in a 2005 study published in Cerebral Cortex

সেটা কীভাবে? গবেষকরা বলছেন, ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী ৮০ জন মাল্টিটাস্কারের উপর গবেষণা চালানো হয়। তাঁদের বিভিন্ন রকম ছবি কোলাজ করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানো হয়। ১০ মিনিট অন্তর ছবি বদলে ফের কোলাজ করে দেখানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, বেশিরভাগ মাল্টিটাস্কারই একের বেশি ছবি ও তাদের কম্বিনেশন চিহ্নিত করতে পারেননি। অথচ তাঁরা ডিজিটাল মিডিয়ার নানা প্ল্যাটফর্মে সিদ্ধহস্ত।

গবেষকরা বলছেন, এই মাল্টিটাস্কারদের মস্তিষ্কের গতিপ্রকৃতি জানতে ইলেকট্রোএনসেফ্যালোগ্রাফি (EEG)পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। এটি এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে মস্তিষ্কের ইলেকট্রিকাল অ্যাক্টিভিটি রেকর্ড করা হয়। মস্তিষ্কে ইলেকট্রোড বসিয়ে পরিমাপ করা হয় স্নায়ুর গতি, কী পরিমাণ বার্তা পৌঁছচ্ছে মস্তিষ্কে ইত্যাদি। তাতে দেখা গেছে, মাল্টিটাস্কারদের মস্তিষ্কের গতি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে কম। এদের বুদ্ধির প্রখরতাও কম। শধু তাই নয়, এদের স্মৃতিনাশের শঙ্কাও বেশি। বেশিরভাগ মাল্টিটাস্কারদের অ্যালঝাইমার্স রোগের সম্ভাবনা আছে বলেও জানান গবেষকরা।

What Makes PEMFs different? | EMF vs Therapeutic Magnetic Fields

মস্তিষ্কের বিশ্রাম দরকার

স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্ক একটা সময় একটাই কাজ করতে পারে। ফোকাস থাকে একদিকেই। তাকে যদি নানারকম কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা শুরু হয়। স্নায়ুর মধ্যে দিয়ে বার্তা পৌঁছয় মস্তিষ্কে। এখন সেকেন্ডের তফাতে যদি কাজের ধরন বদলে যায়, চোখ আর কানকে ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে কোন বার্তা আগে মস্তিষ্কে পৌঁছবে সেটা ঠিক করতে পারে না স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেম। যার ফলে সব মিলেমিশে জট পাকিয়ে যায়। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্ষমতা লোপ পায়। অপ্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে থেকে মস্তিষ্ক সঠিক তথ্য বাছাই করে ছেঁকে নিতে পারে না। যে কারণেই মস্তিষ্কের নানা রোগ ধরা পড়তে থাকে।

গবেষকরা বলছেন, মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে হবে। তার জন্য বিভিন্ন কাজের মধ্যে সময়ের ফারাক রাখা উচিত।

ভাবনাচিন্তা করার জন্যও মস্তিষ্ককে সময় দিতে হবে। তার জন্য সময়ান্তরে মেডিটেশন খুব দরকার।

নিয়মিত যোগব্যায়াম, ডিপ ব্রিদিংয়ে স্ট্রেস রিলিফ হয়। মস্তিষ্কে চাপ পড়ে না।

ব্রেনকে চাঙ্গা করতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট কার্ডিওভ্যাসকুলার এক্সারসাইজ যেমন, হাঁটা, জগিং, সাঁতার বা সাইক্লিং খুবই জরুরি৷

রাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা টানা ঘুম দরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More