পাকিস্তানে আছড়ে পড়ল ছাত্র বিক্ষোভ, কালো জ্যাকেটের আরুজ যেন কানহাইয়া কুমার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো জ্যাকেট আর স্লোগানের তীব্রতায় গর্জে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। ‘সরফরোশি কি তামান্না অব হামারে দিল মে হ্যায়’ গানের কলিতে ঝলসে উঠছে পিতৃতন্ত্র, লিঙ্গবিষম্য, শিক্ষা-সামাজিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি, পুলিশি অত্যাচার থেকে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ। ২০১৬ সালে জেএনইউ-তে কানহাইয়া কুমারের নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের যে স্লোগান উঠেছিল, ঠিক তেমনই উন্মাদনা, প্রতিবাদের ভাবভঙ্গি, আন্দোলনের ভাষা। পাকিস্তানের ফৈজ সাহিত্য উৎসবে ‘প্রোগ্রেসিভ স্টুডেন্টস কালেক্টিভ’ নামে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ ঝড়ের মতো আছড়ে পড়েছে লাহোর ও অন্যান্য শহরে।

    দিন কয়েক আগে থেকেই সিন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ শিক্ষা-সমাজ ও সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।  ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে ‘আজাদি’র স্লোগানও উঠেছে মুর্হূমুর্হূ। আজ শুক্রবার গোটা লাহোর জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন ‘প্রোগ্রেসিভ স্টুডেন্টস কালেক্টিভ’ নামে ওই ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়ারা। আন্দোলনের রেশ ছড়িয়েছিল পাকিস্তানের আরও ৫০টি শহরে।


    কালো জ্যাকেট পরা ওই ছাত্রীই ছিলেন এদিন প্রতিবাদের মুখ। নাম আরুজ ঔরঙ্গজেব। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশনের ওই ছাত্রীর মুখে ছিল স্লোগান ‘সরফরোশি কি তামান্না’, তাঁর ভঙ্গিও মনে করিয়ে দিয়েছে জেএনইউ-এর কানহাইয়া কুমারকে। ছাত্রী বলেছেন, ‘‘আমরা এই আন্দোলনকে সোশ্যাল মিডিয়ার মুচমুচে খবর করতে চাই না। আমরা সাম্য ও স্বাধীনতার জন্য লড়ছি। জানি আমাদের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, কিন্তু আমরা চাই শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর হোক, সমাজে মহিলাদের সম্মান বাড়ুক। সরকারের ভ্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আমরা আওয়াজ তুলবই।’’

    ৩১ অক্টোবর সিন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা হস্টেলে জলাভাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। তার জেরে ১৭ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে ‘পাকিস্তান বিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। হোস্টেল ইনচার্জ ওই ছাত্রদের শনাক্ত করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের দাবি ছিল, ওই পড়ুয়ারা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছিল। যদিও সেই আন্দোলনের ভিডিও সামনে আনা হয়নি।

    পাকিস্তানে প্রায় একমাস ধরে সরকার বিরোধী আন্দোলন চলছে। সরকারের ভ্রান্ত নীতি, ভোটে রিগিং, আর্থিক বিপর্যয়-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের পদত্যাগের দাবিতে সরব জামিয়াত উলেমা-এ-ইসলাম ফজল-এর প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান। পাকিস্তানের বিরোধী দলনেতাদের নিয়ে গত ২৭ মার্চ  ‘আজাদি মার্চ’ নামে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন তিনি। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলেন বিরোধীরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর জায়গায় পৌঁছয় যে আসরে নামতে হয় পুলিশকে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হিংসা রুখতে রাজধানীর সর্বত্র সেনা এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More