মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

এ ভাবে আকাশে উড়তে পারবেন আপনিও! জেটপ্যাক অ্যাভিয়েশন আনছে ‘উড়ন্ত মোটরবাইক’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ধুম’ সিনেমার জন আব্রাহামের মতো চোখে সানগ্লাস সেঁটে মোটরবাইক উড়িয়ে স্টাইল দেখানোর যে স্বপ্নটা এতদিন মনে মনে দেখেছিলেন, সেটা বাস্তব হতে চলেছে। মার্কিন কোম্পানির হাত ধরে দ্রুতই বাজারে আসতে চলেছে ‘উড়ন্ত মোটরবাইক।’

এই চমকটা দিতে চলেছেন ‘জেটপ্যাক’ খ্যাত ডেভিড মায়ম্যান। পিঠে নিজের উদ্ভাবিত জেটপ্যাক বেঁধে টেমস নদীর উপর উড়ে বেরিয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। আরও একবার খবরের শিরোনামে আসতে চলেছেন ডেভিড। তাঁর এ বারের আবিষ্কার হতে চলেছে ‘উড়ন্ত মোটরবাইক’। যানজট বাঁচিয়ে, সময় কম খরচ করে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে থুড়ি সাঁই সাঁই করে উড়তে উড়তেই পৌঁছে যাওয়া যাবে গন্তব্যে।

ডেভিড জানিয়েছেন এই বাইকের স্পিড উঠবে ১৫০ মাইল প্রতি ঘণ্টা, প্রয়োজনে আরও বেশি। মাটি থেকে ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে উড়তে গতি তোলা যাবে বাইকে। ইতিমধ্যেই একবার ট্রায়াল হয়ে গেছে বাইকের। আরও কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধন রয়েছে, সেটা মিটে গেলেই আগামী বছরের মধ্যে উড়ন্ত বাইক হাজির হয়ে যাবে জনসাধারণের জন্য।

এই মোটরবাইকের বিশেষত্ব হলো এতে থাকবে পাঁচটি অত্যাধুনিক জেট ইঞ্জিন। তার সাহায্যে বাইকটি যে কোনও এয়ারক্রাফ্টের মতো গতি বাড়িয়ে উড়তে পারবে আকাশে। ডাইনে-বায়ে মোড় নেওয়া যাবে সহজেই। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন কমার্শিয়াল পাইলট ডেভিড ‘জেটপ্যাক’ প্রযুক্তি নিয়ে আসেন ২০১৬ সালে। ‘ব্যাকপ্যাকের’ মতো ‘জেটপ্যাক’-কে পিঠে নিতে হয়। দু’হাতে থাকে গিয়ার এবং কন্ট্রোলার। সেই দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় ‘জেটপ্যাক’। এর সাহায্যে টেমস নদীর উপরে ৪ মিনিট ধরে ৩০ মিটার উচ্চতায় উড়ে বেরিয়ে রেকর্ড করেছিলেন তিনি। প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাভিয়েশন ডিজাইনার নেলসন টাইলারের সঙ্গে একটি সংস্থাও খুলে ফেলেছেন যার নাম ‘জেটপ্যাক অ্যাভিয়েশন’।

ডেভিডের কথায়, সায়েন্স ফিকশনের গল্পকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনার প্রয়াস চলছে বহুদিন ধরেই। উবের, এয়ারবাস, ভোলোকপ্টারের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যেই উড়ন্ত যানবাহন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উড়ন্ত ট্যাক্সি বাজারে আনবে অ্যাপ ক্যাব সংস্থা উবের। এই ধরনের যানগুলি হবে হেলিকপ্টারের মতো দেখতে। তার মোটরে একাধিক বিশেষ ধরনের ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক প্রযুক্তি থাকবে। যা সাহায্য করবে আকাশসীমা মুক্ত রাখতে। তীব্র শব্দও হবে না।

বাইকের ট্রায়াল রানের একটি ভিডিও সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেছেন ডেভিড। ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমতি পেলেই হই হই করে কাজে লেগে পড়বে এই বাইক। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

 

Shares

Comments are closed.